‘হিন্দু অস্তিত্ব সংকটে’, বিস্ফোরক দাবি তুলে বিজেপি-তে যোগ তৃণমূল নেতার! কাঁপছে আসানসোলের রাজনীতি

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিম বর্ধমানের কুলটি বিধানসভায় রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গেল। তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত বুম্বা চৌধুরী জোড়াফুল শিবির ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন বিজেপিতে। তবে তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গেই প্রায় ৮০০ জন সক্রিয় কর্মী-সমর্থক গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে কুলটিতে তৃণমূলের এই ভাঙন শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বুম্বা চৌধুরীর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এদিন কেবল তৃণমূল নয়, বাম শিবির থেকেও নেতা-কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দেন, যাদের মধ্যে সিপিআই(এম) নেতা বুদ্ধদেব দত্তের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কে এই বুম্বা চৌধুরী? কুলটির রাজনীতিতে বুম্বা চৌধুরী এক অতি পরিচিত নাম। বাম ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই তাঁর উত্থান ঘটেছিল। পরবর্তীতে কুলটির প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তিন বছর কুলটি ব্লক যুব সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলা সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও সামলেছেন তিনি। তবে স্থানীয় সূত্রের খবর, গত কয়েক মাস ধরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল তাঁর। যোগ্য সম্মান না পাওয়ায় কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন এই দাপুটে নেতা।
বিস্ফোরক মন্তব্য ও রাজনৈতিক বিতর্ক: বিজেপিতে যোগ দিয়েই বুম্বা চৌধুরী এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি বলেন, “হিন্দু হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব আজ সংকটে। নিজেদের বাঁচাতেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন ক্ষমতা নয়, অস্তিত্ব রক্ষাই প্রধান লড়াই।” তাঁর এই মন্তব্য আসানসোল শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের: এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল জেলা সম্পাদক সুব্রত সিনহা বলেন, “বুম্বা আমার ভাইয়ের মতো, ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু কুলটির মাটিতে বিজেপিকে আমরা হারাবই। খুব শীঘ্রই বিজেপির বড় বড় নেতারা আমাদের দলে যোগ দেবেন।” সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে কুলটির দখল কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে লড়াই এখন তুঙ্গে।