‘রাফাল ভারতকে আরও শক্তিশালী করছে’, মেগা চুক্তি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা ওড়ালেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট!

ভারতের আকাশসীমায় এবার আরও শক্তিশালী হতে চলেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়ে ১১৪টি নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সবুজ সংকেত দিয়েছে ভারত সরকার। প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার এই মেগা চুক্তি নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে, ঠিক তখনই কড়া জবাব দিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাফাল চুক্তি ভারতকে সামরিকভাবে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

ম্যাক্রোঁ ভারতের সঙ্গে এই বিশাল চুক্তির সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি জানি না মানুষ কীভাবে এর সমালোচনা করতে পারে? কারণ, এই চুক্তি আপনার দেশকে (ভারতকে) শক্তিশালী করছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যেকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার একটি মাধ্যম।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং কর্মসংস্থান: ফরাসি প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন যে, নতুন এই চুক্তির মূল ভিত্তি হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্প। ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের সহ-উৎপাদন ভারতেই হবে, যার ফলে এখানে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ম্যাক্রোঁর কথায়, “আমরা ভারতে সর্বাধিক সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টাটা-এয়ারবাস চুক্তির মতো রাফালের ক্ষেত্রেও আমরা একই পথ অনুসরণ করব।” প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই স্বনির্ভরতা ভারতকে বিশ্বমঞ্চে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে তিনি মনে করেন।

সাবমেরিন ও কৌশলগত সমন্বয়: শুধুমাত্র আকাশপথ নয়, জলপথেও ভারতের শক্তি বাড়াতে ফ্রান্স পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। তিনি জানান, রাফালের পাশাপাশি সাবমেরিন তৈরির ক্ষেত্রেও দুই দেশ একইভাবে কাজ করতে আগ্রহী। ভারতের রক্ষণাবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির আদান-প্রদানই হবে এই দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার লক্ষ্য।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কড়া বার্তা: সামিটে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও মুখ খোলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “আমি মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছতা ও সম্মানের ভিত্তিতে। যখন মানুষ নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা পূরণের জন্য বা ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানোর জন্য একে ব্যবহার করে, তখন তাকে স্বাধীনতা বলা যায় না।” তাঁর এই বক্তব্য বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।