ছিল রুমাল হয়ে গেল বিড়াল! লাইভে বিউটি ফিল্টার সরতেই ফাঁস চিনা সুন্দরীর আসল রূপ, হারালেন লাখো ফলোয়ার

বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়া মানেই চটকদার গ্ল্যামার আর চোখধাঁধানো রূপ। কিন্তু সেই রূপ যদি কেবল ‘ফিল্টারের কারসাজি’ হয়? সম্প্রতি এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল নেট দুনিয়া। লাইভ স্ট্রিমিং চলাকালীন কয়েক সেকেন্ডের কারিগরি ত্রুটির কারণে এক জনপ্রিয় চিনা ইনফ্লুয়েন্সারের বিউটি ফিল্টার হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায়। আর তার ফলেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে তাঁর আসল চেহারা, যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ নেটিজেনদের।
মুহূর্তে উধাও বিউটি কুইন জানা গিয়েছে, ওই চিনা ইনফ্লুয়েন্সার রোজকার মতোই তাঁর ফলোয়ারদের সঙ্গে লাইভ সেশনে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ভিডিওতে তাঁকে অত্যন্ত স্টাইলিশ এবং সুন্দরী দেখাচ্ছিল। কিন্তু মাঝপথে ঘটে যায় বিপত্তি। বিউটি ফিল্টারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর মুখ থেকে ডিজিটাল মেকআপ সরে যায়। ফিল্টার-হীন সেই মুখের সঙ্গে তাঁর চেনা রূপের এতটাই তফাত ছিল যে ফলোয়াররা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না এটি সেই একই মানুষ।
ফলোয়ার হারানো ও বিতর্ক এই ঘটনার ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে এক্স (X) এবং ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়ে যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই ‘আসল চেহারা’ প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ওই মহিলা ইতিমধ্যেই প্রায় ১,৪০,০০০ ফলোয়ার হারিয়েছেন। যদিও এই সংখ্যার সত্যতা এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। একাংশের দাবি, ফিল্টার ব্যবহার করে ফলোয়ারদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার। অন্য অংশ আবার বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানসিক চাপের কারণেই অনেকে ফিল্টারের আশ্রয় নেন, তাই একে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
সফটওয়্যারের কারসাজি বনাম বাস্তবতা এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দার ওপারে যা দেখা যায়, তার সবটা সত্যি নাও হতে পারে। সফটওয়্যার বা এআই ফিল্টার ব্যবহার করে রূপ বদলে ফেলার এই প্রবণতা এখন ডিজিটাল দুনিয়ায় এক বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই মহিলার পরিচয় এখনও গোপন থাকলেও, তাঁর এই ‘ফিল্টার বিভ্রাট’ এখন বিশ্বজুড়ে চর্চার বিষয়।