তেলের দামে আগুন আর প্রফিট বুকিংয়ের ধাক্কা! নিফটি নামল ২৬ হাজারের নিচে, জানুন ধসের আসল কারণ

শেয়ার বাজার যে ঠিক কতটা অনিশ্চিত, তা আজ হাড়ে হাড়ে টের পেলেন বিনিয়োগকারীরা। টানা তিন দিনের তেজিভাবের পর বৃহস্পতিবার ধস নামল দালাল স্ট্রিটে। মাত্র ৬ ঘণ্টার লেনদেনে লগ্নিকারীদের পকেট থেকে উবে গেল প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা। সেনসেক্স আজ প্রায় ১১০০ পয়েন্ট খুইয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে। অন্যদিকে, নিফটি তার দৈনিক সর্বনিম্ন স্তর ২৫,৫৬৭.৭৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বিশেষ করে মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ কোম্পানিগুলি এই বিক্রির ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিএসই (BSE) তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন ৪৭২ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৬৬ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কেন এই আকস্মিক পতন? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ। প্রথমত, গত তিন দিনে বাজার ১.৪ শতাংশ বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা উচ্চ স্তরে ‘প্রফিট বুকিং’ বা মুনাফা তোলা শুরু করেছেন। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। ভারত বড় তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়, যা লগ্নিকারীদের চিন্তায় রেখেছে।
তৃতীয়ত, ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বড়সড় পতন। কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক এবং ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্কের মতো হেভিওয়েট শেয়ারগুলি ১ শতাংশ থেকে ১.৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যাওয়ায় ব্যাঙ্ক নিফটিও চাপের মুখে পড়ে। আইটি এবং ফার্মা ছাড়া রিয়েলটি, এফএমসিজি এবং ভোগ্যপণ্য— সব খাতের সূচকই আজ ছিল লাল সঙ্কেতে। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষে বাজারের এই রক্তক্ষরণ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।