‘ঠাকুর’ বনাম ‘স্বামী’ বিতর্ক! মোদীর ‘ভুল’ ধরতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণ-কাণ্ডে পাল্টা বিদ্ধ মমতা

যুগাবতার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ‘স্বামী’ সম্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই বিতর্ক বুমেরাং হয়ে আছড়ে পড়ল খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ওপর। রামকৃষ্ণদেবের নামের আগে ‘স্বামী’ বিশেষণ ব্যবহার করায় মোদীকে ‘অজ্ঞ’ বলে আক্রমণ করেছিলেন মমতা। পাল্টা জবাবে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য মুখ্যমন্ত্রীর একটি পুরনো ভিডিও পোস্ট করে মনে করিয়ে দিয়েছেন, মমতা নিজেই একবার ঠাকুরকে ‘শ্রীকৃষ্ণ পরমহংস’ বলে সম্বোধন করেছিলেন!
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে শ্রীরামকৃষ্ণকে ‘স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংস’ বলে শ্রদ্ধা জানান। এতেই তীব্র আপত্তি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পাল্টা পোস্টে লেখেন, “আমি স্তম্ভিত! ঠাকুরকে ‘স্বামী’ বলা মানে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা। রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের পবিত্র ত্রয়ী হলেন ঠাকুর, মা এবং স্বামীজি (বিবেকানন্দ)। ঠাকুরকে ‘স্বামী’ বলা অপমানজনক।” তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন বাংলার আবেগ নিয়ে যেন খেলা না করা হয়।
তবে এই আক্রমণের জবাবে বসে থাকেনি বিজেপি। অমিত মালব্য মমতার একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন যেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “শ্রীকৃষ্ণ পরমহংসদেব কী বলেছিলেন… যিনি গতায় বাণী লিখেছিলেন।” মালব্যর কটাক্ষ, রামকৃষ্ণ পরমহংস আর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে গুলিয়ে ফেলা নেত্রী কোন মুখে প্রধানমন্ত্রীর ভুল ধরছেন? মালব্যর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘স্বামী’ শব্দটি এখানে মঠের সন্ন্যাসী অর্থে নয়, বরং ‘মহান গুরু’ বা আধ্যাত্মিক অধিপতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা অদ্বৈত বেদান্তের দর্শনে সংগতিপূর্ণ। ভোটের মুখে বাংলার মনীষীদের ‘সম্মান’ নিয়ে এই দড়ি টানাটানি যে আরও তপ্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য।