ধর্ষণে অভিযুক্তের পাশে রাজ্য বিজেপি সভাপতি! ভোটের মুখে দুর্গাপুরে চরম অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির?

ভোটের বাদ্যি বাজতেই ফের একবার অস্বস্তিকর বিতর্কে জড়াল বঙ্গ বিজেপি। দুর্গাপুরের কাঁকসায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। বিতর্কের মূলে রয়েছেন মার্বেল ব্যবসায়ী হিরন্ময় দাস, যাঁর বিরুদ্ধে ২০২২ সালে দিল্লিতে এক মহিলাকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলায় দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে প্রায় তিন মাস তিহাড় জেলে কাটিয়েছিলেন এই ব্যবসায়ী। সম্প্রতি তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, আর তাঁর আয়োজিত অনুষ্ঠানেই দেখা গেল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুইকে।
২০২২ সালের সেই কালিমালিপ্ত অতীত নিয়ে মুখ খুলেছেন হিরন্ময় দাস স্বয়ং। তাঁর দাবি, “আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছিল। মাসখানেক আগেই মামলা মিটে গিয়েছে এবং আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। স্রেফ টাকার জন্য আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়।” তবে কেবল ধর্ষণ মামলা নয়, তাঁর বিরুদ্ধে জলাভূমি ভরাট ও সরকারি জমি দখলের মতো একাধিক অভিযোগও রয়েছে বলে সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ২০২১ নির্বাচনের আগে কয়লা মাফিয়া রাজু ঝার বিজেপিতে যোগদান নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, এই ঘটনা যেন সেই স্মৃতিকেই উসকে দিল।
এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “দিল্লি পুলিশের হাতে ধরা পড়া একজন ধর্ষণে অভিযুক্ত এখন বিজেপির ঝান্ডা ধরে নিজেকে বাঁচাতে চাইছে। বিজেপি যে অপরাধীদের আশ্রয় দেয়, এটা তারই প্রমাণ। বাংলার মানুষ সময়মতো এর জবাব দেবে।” অন্যদিকে, বিতর্কের মুখেও দমে যাননি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান, “দেশে আইন আছে। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেই তার উত্তর দেবেন। কারও কোনও সমস্যা থাকলে থানায় অভিযোগ জানান।” তবে ভোটের মুখে এই ‘তিহাড় যোগ’ যে বিজেপির অস্বস্তি বাড়াল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।