গাড়ির ভুয়ো ‘ই-চালান’ পাঠিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার জালিয়াতি! গুরগাঁও থেকে যুবককে পাকড়াও করল লালবাজার

গাড়ির ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভুয়ো ‘ই-চালান’ মেসেজ পাঠিয়ে সর্বস্ব লুঠ করার এক আন্তঃরাজ্য প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে দীপক কুমার (২৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। তাঁর বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকারও বেশি জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

কীভাবে চলত এই প্রতারণা? পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারকরা পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের মোবাইলে একটি মেসেজ পাঠাত। সেখানে দাবি করা হতো যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গাড়ির বিরুদ্ধে একটি ই-চালান জারি হয়েছে। মেসেজের সঙ্গে একটি ‘ফিশিং লিঙ্ক’ থাকত। ওই লিঙ্কে ক্লিক করলেই একটি ভুয়ো ‘mParivahan’ অ্যাপের APK ফাইল ডাউনলোড হয়ে যেত মোবাইলে। এর মাধ্যমেই ভুক্তভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত প্রতারকরা। কলকাতার এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে এভাবেই ৬০ হাজার টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার পর সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের হয়।

তদন্তে লালবাজারের সাফল্য: কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানান, ভারত সরকারের সাইবার অপরাধ দমন সংস্থা (I4C)-এর সহায়তায় সার্ভার ও আইপি (IP) অ্যাড্রেস ট্র্যাক করা হয়। দেখা যায়, গুরগাঁওয়ের একটি টেলিকম সংস্থার আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে প্রতারণার ইমেলগুলো পাঠানো হচ্ছিল। কেওয়াইসি (KYC) খতিয়ে দেখে ঝাঞ্জর জেলার বাসিন্দা দীপক কুমারকে শনাক্ত করে পুলিশ। জেরায় বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় এবং প্রমাণ নষ্ট করার আশঙ্কায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সতর্কবার্তা: তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের জাল আরও গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে। বুধবার ধৃতকে কলকাতার আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। ট্রাফিক চালান সংক্রান্ত কোনো মেসেজ এলে লিঙ্ক ক্লিক না করে সরাসরি সরকারি পোর্টালে গিয়ে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।