মুর্শিদাবাদে ২৪ ঘণ্টার ‘উলটপুরাণ’! তৃণমূলে গিয়েও একদিনে কংগ্রেসে ফিরলেন পঞ্চায়েত প্রধান

মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়! তৃণমূলে যোগ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে এলেন বহরমপুর ব্লকের নওদাপানু গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জেসমিনা খাতুন। মঙ্গলবার ঘাসফুল শিবিরের পতাকা হাতে নিলেও, বুধবার সকালেই স্বামীর হাত ধরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে এসে ‘ঘর ওয়াপসি’ করলেন তিনি। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

যোগদান ও নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার, যখন জেসমিনা খাতুন ও তাঁর স্বামী আরিফুল শেখ বহরমপুরে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে গিয়ে শাসক দলে যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নির্বাচিত সদস্য ও শতাধিক কর্মী তৃণমূলে চলে যাওয়ায় নওদাপানু পঞ্চায়েত হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল কংগ্রেসের। বুধবার সকাল থেকেই ওই পঞ্চায়েত দখল ও বোর্ড গঠনের জন্য তৃণমূল সমর্থকরা বাজনা নিয়ে উৎসব শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিকেলে জেসমিনা স্পষ্ট জানান, “ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তাই নিজের দলেই ফিরে এলাম।”

অধীর চৌধুরীর কড়া প্রতিক্রিয়া এই ঘটনায় সরব হয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি তৃণমূলকে ‘সাহু ডাকাত’-এর দলের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “কংগ্রেসকে লুট করার চেষ্টা হচ্ছে, যা আমরা মেনে নেব না।” অন্যদিকে, ব্লক কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, জেসমিনাকে কোনো চাপ দিয়ে ফেরানো হয়নি, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই ফিরেছেন। তবে কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগ, প্রধানের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে শাসক দল।

নওদাপানুর বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ ২২ আসনের এই পঞ্চায়েতে গত নির্বাচনে কংগ্রেস ১১টি আসন পেয়েছিল এবং বামেদের সমর্থনে বোর্ড গঠন করেছিল। তৃণমূলের দখলে ছিল ১০টি আসন। জেসমিনা খাতুনের এই প্রত্যাবর্তনের ফলে আপাতত নওদাপানু পঞ্চায়েত বোর্ড কংগ্রেসের হাতেই সুরক্ষিত রইল। বহরমপুরের এই টানাপোড়েন আরও একবার প্রমাণ করে দিল মুর্শিদাবাদের মাটিতে কংগ্রেস ও তৃণমূলের লড়াই কতটা হাড্ডাহাড্ডি।