মহিলাদের বিকৃত ছবি তৈরি করছে মাস্কের AI? একের পর এক নামী প্রতিষ্ঠান ছাড়ছে ‘X’, চরম সংকটে ইলন!

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (X) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার হিড়িক পড়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সিটি কাউন্সিল, দাতব্য সংস্থা কিংবা পুলিশ—তালিকাটি দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটির কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়া এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বাড়বাড়ন্তই এই গণ-প্রস্থানের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’: বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক্স-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন টুল ‘গ্রোক’ (Grok)। অভিযোগ উঠেছে, এই এআই টুল ব্যবহার করে বাস্তব ব্যক্তিদের বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করা হচ্ছে, যা নারীদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কারা কারা ছাড়ল ‘এক্স’? সাম্প্রতিক সময়ে একগুচ্ছ প্রভাবশালী সংস্থা ‘এক্স’ বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে:

  • বেলফাস্ট সিটি কাউন্সিল: গ্রোক এআই-এর বিতর্কিত ভূমিকার কারণে তারা প্ল্যাটফর্মটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

  • ডাবলিন সিটি কাউন্সিল: চলতি বছরের শুরুতেই তারা এক্স ত্যাগ করেছে।

  • পুলিশ সার্ভিস (PSNI): উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুলিশ সার্ভিস তাদের জেলা পর্যায়ের অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

  • বিশ্ববিদ্যালয় ও চ্যারিটি: কিউইউবি (QUB)-র মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নিকভা (NICVA)-র মতো দাতব্য সংস্থাগুলি জানিয়েছে, এক্স আর তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কেন এই বিমুখতা? সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ২০২২ সালে ইলন মাস্ক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কেনার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলেছে। ভুয়ো তথ্য, ঘৃণাত্মক মন্তব্য, এলজিবিটিকিউ বিরোধী ভাষা এবং নারীবিদ্বেষী প্রচার প্ল্যাটফর্মটিকে ‘অনিরাপদ’ করে তুলেছে। ‘কমিউনিটি ফাউন্ডেশন ফর নর্দান আয়ারল্যান্ড’-এর মতে, প্ল্যাটফর্মটির পরিবেশ এখন এতটাই বিষাক্ত যে সেখানে সুস্থ যোগাযোগ বজায় রাখা অসম্ভব।

মুনাফা না কি সুরক্ষা? গ্রিন পার্টির কাউন্সিলর ব্রায়ান স্মিথের মতে, মুনাফার চেয়ে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা এবং সম্মান অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। এক্স থেকে প্রতিষ্ঠানের পর প্রতিষ্ঠান সরে দাঁড়ানো এই বার্তাই দিচ্ছে যে, কেবল প্রযুক্তির উন্নতি নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে ব্যর্থ হলে বড় মাশুল গুনতে হবে যে কোনও টেক জায়ান্টকে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, পুরোনো আস্থা কি আর ফিরে পাবে মাস্কের এই প্ল্যাটফর্ম, নাকি এটিই এক্স-এর পতনের শুরু?