“১৫০০ কোটি ডলারের বাজি সুন্দরের!”- Google-এর মেগা প্ল্যানে কাঁপছে বিশ্ব!

ভারতের ডিজিটাল মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ গুগল (Google) ঘোষণা করল তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘আমেরিকা-ইন্ডিয়া কানেক্ট’ (America-India Connect) উদ্যোগের কথা। এই প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিশাল কেবল নেটওয়ার্ক তৈরি করে ভারতের সঙ্গে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়াকে সরাসরি যুক্ত করা হবে। এই মেগা প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম।
গুগলের ১২৫,০০০ কোটি টাকার বাজি: গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে ভারতে ১৫০০ কোটি ডলার (প্রায় ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করা হবে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমেই বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠবে আমেরিকার বাইরে গুগলের বৃহত্তম ‘এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার হাব’ এবং আন্তর্জাতিক সাবসি গেটওয়ে। এর ফলে ডেটা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে মুম্বই ও চেন্নাইয়ের ওপর চাপ কমবে এবং ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনটি কৌশলগত রুট: ১. ভাইজ্যাগ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা: সরাসরি ফাইবার অপটিক কেবল যা আফ্রিকার হয়ে আমেরিকাকে জুড়বে। ২. ভাইজ্যাগ থেকে সিঙ্গাপুর: দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। ৩. মুম্বই থেকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের ডিজিটাল সেতুবন্ধন।
সুন্দর পিচাইয়ের বার্তা: সামিটে বক্তব্য রাখার সময় সুন্দর পিচাই বলেন, “এআই (AI) ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। ভারত এখন এমন এক অনন্য অবস্থানে রয়েছে যা বিশ্বজুড়ে এআই-এর গণতন্ত্রায়ণে ব্লু-প্রিন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে।” তিনি আরও জানান, বিশাখাপত্তনমের এই হাবে গিগাওয়াট-স্কেল কম্পিউটিং ক্ষমতা থাকবে, যা ভারতকে এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত করবে।
সঙ্গ দিচ্ছে চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়া (Nvidia): শুধু গুগল নয়, ভারতের এআই বিপ্লবে সামিল হয়েছে এনভিডিয়া-ও। তারা ভারতের তিনটি ক্লাউড কম্পিউটিং সংস্থা— যোটা (Yotta), এলঅ্যান্ডটি (L&T) এবং ইটুই নেটওয়ার্কস (E2E Networks)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে। যোটা-র ডাটা সেন্টারে ২০,০০০-এরও বেশি ‘এনভিডিয়া ব্ল্যাকওয়েল আল্ট্রা’ জিপিইউ বসানো হবে, যা এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম সুপার-ক্লাস্টার তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে, বিশাখাপত্তনমের বন্দর শহরটি এখন ভারতের নতুন ‘এআই রাজধানী’ হওয়ার পথে। গুগলের কেবল আর এনভিডিয়ার প্রসেসরের এই মেলবন্ধন ভারতের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ডিজিটাল পরিকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।