সঙ্গম ছাড়া বীর্যপাত ধর্ষণ নয়’, ২০ বছরের পুরনো মামলায় বিস্ফোরক রায় হাইকোর্টের!

‘ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণের জন্য অপরিহার্য শর্ত হলো সঙ্গম বা পুরুষাঙ্গের প্রবেশ (Penetration), বীর্যপাত নয়।’ দুই দশক আগের একটি মামলার রায় সংশোধন করে এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করল ছত্তীসগঢ় হাইকোর্ট। বিচারপতি নরেন্দ্র কুমার ব্যাসের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সঙ্গম ছাড়া বীর্যপাত হলে তা ‘ধর্ষণ’ নয়, বরং ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে গণ্য হবে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও ২০ বছর আগের সাজা ঘটনাটি ২০০৪ সালের। এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে জনৈক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন সঙ্গমের মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০০৫ সালে ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দেয়। সেই সাজাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল অভিযুক্ত। জেরা চলাকালীন অভিযুক্ত দাবি করেছিল যে, সে নির্যাতিতার গোপনাঙ্গের উপর পুরুষাঙ্গ রাখলেও তা ভেতরে প্রবেশ করায়নি।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও মেডিক্যাল রিপোর্ট গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ছত্তীসগঢ় হাইকোর্ট এই মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে বসে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
-
মেডিক্যাল রিপোর্ট: নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে তাঁর যোনিচ্ছদ (Hymen) সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল। যদিও যৌনাঙ্গে লাল ভাব বা সাদা ডিসচার্জ পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু তা দিয়ে ‘ধর্ষণ’ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
-
আইনের ধারা: ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী, ধর্ষণ প্রমাণের জন্য যোনিতে পুরুষাঙ্গের সামান্যতম প্রবেশ ঘটাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই মামলায় আংশিক প্রবেশের সম্ভাবনা থাকলেও তার জোরালো প্রমাণ মেলেনি।
-
অসংলগ্ন বয়ান: নির্যাতিতার বয়ানেও গরমিল পেয়েছে আদালত। প্রথমে জোর করে সঙ্গমের কথা বললেও, পরে তিনি জানিয়েছিলেন যে অভিযুক্ত কেবল যৌনাঙ্গের উপর পুরুষাঙ্গ রেখেছিল।
রায় সংশোধন ও সাজা হ্রাস আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, শারীরিক মিলনের অকাট্য প্রমাণ ছাড়া একে ‘ধর্ষণ’ বলা আইনত ভুল। এটি আসলে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape)। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ২০ বছর আগের সাত বছরের কারাদণ্ডের সাজা কমিয়ে ৩ বছর ৬ মাস ধার্য করেছে হাইকোর্ট। দেশের আইনি পরিমণ্ডলে আদালতের এই ব্যাখ্যা আগামী দিনের এই ধরণের মামলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।