দুই ম্যাচে ০ রান! হারানো ফর্ম খুঁজতে নেটে ঘাম ঝরাচ্ছেন অভিষেক, আজ কি ভাগ্য ফিরবে ভারতের ‘বিস্ময়’ বালকের?

কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের নয়নের মণি। মাঠের বাইরে তাঁকে ঘিরেই উপচে পড়ছিল ভিড়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছিল তাঁর এয়ারপোর্ট লুক। কিন্তু ক্রিকেট বড়ই অনিশ্চয়তার খেলা। সেই জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা অভিষেক শর্মা এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাটে রানের খরা এতটাই যে, নিজের সঙ্গে নিজেই এক অদৃশ্য যুদ্ধে লিপ্ত পাঞ্জাবের এই তারকা ওপেনার।
ব্যর্থতার পরিসংখ্যান ও দুশ্চিন্তা বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে অভিষেককে নিয়ে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছিল, টুর্নামেন্ট শুরু হতেই যেন তিনি খেই হারিয়ে ফেলেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রথম বলেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামা হয়নি। এরপর পাকিস্তানের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচেও চতুর্থ বলে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। অর্থাৎ, চলতি বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ খেলে এখনও খাতা খুলতে পারেননি অভিষেক। এই ফর্মহীনতা স্বাভাবিকভাবেই কপালে ভাঁজ ফেলেছে টিম ম্যানেজমেন্টের।
নেটে কঠিন পরিশ্রম ও কোচের আস্থা আজকের ম্যাচটি ভারতের জন্য কার্যত নিয়মরক্ষার হলেও, অভিষেকের কাছে এটি নিজেকে প্রমাণ করার শেষ সুযোগ। গত কয়েক দিন ঐচ্ছিক অনুশীলন থাকলেও একমাত্র অভিষেককেই দেখা গিয়েছে নেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরাতে। স্পিনারদের বিরুদ্ধে একের পর এক বড় শট খেলে তিনি যেন বার্তা দিচ্ছেন—সিংহ এখন ঘুমিয়ে থাকলেও জেগে উঠতে সময় নেবে না। ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকও তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, “অভিষেক দারুণ ফর্মে অনুশীলন করছে। অহেতুক চিন্তার কারণ নেই, ও জানে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। আশা করছি আজই ও বড় রান পাবে।”
দলে সম্ভাব্য রদবদল আজকের ম্যাচে ভারতীয় শিবিরে বেশ কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। পেস অ্যাটাক সামলাতে হার্দিক পান্ডিয়া এবং জসপ্রীত বুমরাহকে বিশ্রাম দিয়ে অর্শদীপ সিংকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ব্যাটিং অর্ডারে তিলক বর্মা, রিঙ্কু সিং এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকেও দীর্ঘক্ষণ নেটে বড় শট মারার প্র্যাকটিস করতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে নজর দিতে কুলদীপ যাদবকে বিশেষ ক্যাচিং প্র্যাকটিস করানো হয়েছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে আজ গোটা ভারতের নজর থাকবে ওপেনিং স্লটে—অভিষেক শর্মা কি পারবেন শূন্য থেকে শিখরে ফিরতে?