গায়িকা দেবলীনার নিশানায় স্বামী প্রবাহ! আইনি প্যাঁচে এবার উল্টো বিপাকে পড়তে পারেন শিল্পী?

বিগত কয়েক মাস ধরে টলিউড ও সংগীত জগতের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে গায়িকা দেবলীনা নন্দী ও তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দীর তিক্ত দাম্পত্যের কাহিনী। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ধুমধাম করে বিয়ে, কিন্তু বছরের মাথাতেই সেই রূপকথার গল্পে লাগল কালির দাগ। সম্প্রতি দেবলীনা তাঁর পাইলট স্বামী প্রবাহর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু এই আইনি লড়াইয়ে এবার নতুন মোড় নিয়ে এলেন আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস। তাঁর দাবি, প্রবাহ যদি পালটা আইনি পদক্ষেপ নেন, তবে দেবলীনা নিজেই বড়সড় বিপদে পড়তে পারেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দেবলীনার অভিযোগ দেবলীনা নন্দীর অভিযোগ ছিল মারাত্মক। তিনি দাবি করেছিলেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন প্রবাহ। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গায়িকা ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁর অভিযোগের তির ছিল স্বামীর দিকেই—দাবি করেছিলেন, প্রবাহ তাঁকে মা অথবা স্বামীর মধ্যে একজনকে বেছে নিতে বাধ্য করেছিলেন। বর্তমানে শারীরিক ভাবে সুস্থ হয়ে মঞ্চে ফিরলেও, মানসিকভাবে যে তিনি বিপর্যস্ত তা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেই স্পষ্ট।

আইনজীবী মুকুল বিশ্বাসের বিস্ফোরক দাবি ফেসবুক পেজ ‘ভয়েস অফ ভয়েসলেস’-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস এই মামলার অন্য পিঠ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, দেবলীনা যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে বা ভিডিওর মাধ্যমে স্বামীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। মুকুল বিশ্বাস বলেন, “একজন সফল পুরুষের জীবন কীভাবে ধ্বংস করা যায়, দেবলীনা নন্দী তার জ্বলন্ত উদাহরণ। সংবাদমাধ্যমের খবর যদি সত্যি হয় এবং দেবলীনা যদি বধূ নির্যাতনের মামলা করে থাকেন, তবে আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই।”

উল্টো বিপাকে পড়তে পারেন গায়িকা? আইনজীবীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেবলীনা যে সমস্ত ভিডিও বা প্রমাণ পেশ করছেন, তা বিচারসাপেক্ষ। কিন্তু দিনের পর দিন স্বামীকে হেনস্থা করা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একতরফা ভাবে তাঁর চরিত্রহনন করার অপরাধে প্রবাহও দেবলীনার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। মুকুল বিশ্বাস মনে করেন, প্রবাহ তাঁর শিক্ষা ও ভদ্রতার কারণে এতদিন চুপ ছিলেন, কিন্তু এখন তাঁর উচিত আইনি পথ ধরা। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই মামলার পর দেবলীনা হয়তো মোটা অঙ্কের খোরপোশ দাবি করবেন।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশ সূত্রে খবর, বধূ নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রবাহ নন্দী তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে থানায় হাজিরা দিয়েছেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে আইনজীবী মুকুল বিশ্বাসের এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সত্যিই কি দেবলীনা আইনের অপব্যবহার করছেন, নাকি প্রবাহর নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও সত্যি? আপাতত আদালত ও পুলিশের তদন্তই বলে দেবে এই হাই-প্রোফাইল দাম্পত্য কলহের শেষ পরিণতি কী।