“সব দোষ অধ্যাপিকার!”-চিনা রোবটকে নিজেদের বলে চালাতে গিয়ে চরম কেলেঙ্কারি

দেশীয় প্রযুক্তির জয়গান গাইতে আয়োজিত হয়েছিল ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। কিন্তু সেখানেই ঘটে গেল এক চরম বিপত্তি। গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের (Galgotias University) প্রদর্শনীতে চিনা প্রযুক্তির এক ‘রোবোডগ’ (Robodog)-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—নিজেদের উদ্ভাবন নয়, এমন কোনও প্রযুক্তি প্রদর্শন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো যাবে না।

সরকারের লাল চোখ: বিতর্কের আঁচ লাগতেই আসরে নেমেছেন আইটি সচিব এস কৃষ্ণান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকার চায় না প্রদর্শকরা এমন কিছু দেখাক যা তাদের নিজেদের নয়। কোনও বিভ্রান্তিকর উপস্থিতিকে আমরা প্রশ্রয় দেব না।” তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অভিষেক সিংও সুর মিলিয়ে জানান, এই একটি বিতর্কের জন্য যেন অন্য অংশগ্রহণকারীদের পরিশ্রম বৃথা না যায়।

‘অতি উৎসাহী’ অধ্যাপিকাকেই বলির পাঁঠা? চরম বিতর্কের মুখে পড়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা পুরো দায় চাপিয়েছে তাদেরই অধ্যাপিকা নেহা সিংয়ের ওপর। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি:

  • ওই অধ্যাপিকা রোবটটির প্রযুক্তিগত উৎস সম্পর্কে জানতেন না।

  • ক্যামেরার সামনে ‘অতি উৎসাহ’ দেখাতে গিয়ে তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন।

  • বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ক্ষমা চেয়ে ইতিমধ্যেই স্টল খালি করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নিতিন কুমার গৌর দাবি করেছেন, রোবটটি একটি ভারতীয় সংস্থা থেকে কেনা হয়েছিল, যারা সম্ভবত এটি চিন থেকে আমদানি করেছে। তাঁর ব্যাখ্যা, “এটি ডেভেলপড (তৈরি করা) নয়, বরং স্টুডেন্টদের ডেভেলপমেন্টের (শিক্ষার কাজে) জন্য আনা হয়েছিল।”

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী শিবিরও। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই এআই সামিটকে ‘অগোছালো পিআর চমক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, চিনা পণ্যের পাশে ভারতীয় ডেটা প্রদর্শন করা হচ্ছে। অন্যদিকে শিবসেনা (UBT) সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী এই ঘটনাকে ‘দেশের সম্মানহানি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

মেক ইন ইন্ডিয়ার মঞ্চে চিনা রোবটের এই ‘অনুপ্রবেশ’ এবং পরবর্তী কাদা ছোড়াছুড়ি এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয়।