নির্বাচনী ডিউটিতে গাফিলতি! চাকরি খোয়ালেন ৩ কেন্দ্রীয় আধিকারিক, কমিশনের নজিরবিহীন অ্যাকশন

নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই চরম তৎপরতা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI)। এবার কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার ৩ জন মাইক্রো অবজার্ভারকে সরাসরি তাঁদের মূল চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হলো। এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, অভিযুক্তরা সকলেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী। এদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ২ জন ম্যানেজার এবং আয়কর দপ্তরের ১ জন ইনস্পেক্টর। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে এই কড়া ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে।

অভিযোগের তির কোথায়? কমিশন সূত্রে খবর, ওই ৩ আধিকারিকের বিরুদ্ধে যেমন কাজে অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, তেমনই তাঁরা যথাযথ অনুমতি না নিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এছাড়াও ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া তাঁরা সঠিকভাবে পালন করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। কমিশন আগেই সতর্ক করেছিল যে, মাইক্রো অবজার্ভারদের কাজে কোনো ত্রুটি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই ধাপে ট্রেনিং দেওয়ার পরেও এই গাফিলতি বরদাস্ত করতে নারাজ সিইও দপ্তর।

মমতার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ও সংঘাত: সম্প্রতি ৪ জেলার ৭ জন রাজ্য সরকারি এএআরও-কে (AERO) সাসপেন্ড করেছে কমিশন। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য বনাম কমিশন সংঘাত চরমে। মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া সুরে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “যাঁদের ডিমোশন করা হবে, তাঁদের আমরা প্রমোশন দেব।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো আধিকারিককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকারের দাবি, অভিযুক্তরা অন্যায় করলে কমিশন রাজ্যকে জানাতে পারত।

কেন্দ্রীয় বনাম রাজ্য লবি: এতদিন পর্যন্ত অভিযোগ উঠছিল যে কমিশন কেবল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের টার্গেট করছে। কিন্তু এই ৩ কেন্দ্রীয় আধিকারিককে সাসপেন্ড করার পর সেই তত্ত্বে কিছুটা বদল এল। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের ফলে প্রশাসনিক মহলে কার্যত কম্পন শুরু হয়েছে। একদিকে যখন কমিশন স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে জিরো টলারেন্স নীতি নিচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার অফিসারদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে।