তিন হাজার বছরের পুরনো ‘ম্যাজিক’ পানীয়! রাতে এক গ্লাস খেলেই স্মৃতিশক্তি হবে তুখোড়, উধাও হবে বার্ধক্য

বয়স বাড়লেই কি স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া অনিবার্য? আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রাচীন আয়ুর্বেদ বলছে— একদমই নয়। গত তিন হাজার বছর ধরে ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসা এক বিশেষ পানীয় এখন বিশ্বজুড়ে ‘সুপার ড্রিঙ্ক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যাকে আমরা ‘গোল্ডেন মিল্ক’ বা হলুদ-দুধ বলে জানি, তা কেবল শরীর গরম রাখে না, বরং মস্তিষ্কের কোষকে সজীব রেখে বয়সের কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

কারকিউমিনের কেরামতি ও মস্তিষ্কের সুরক্ষা: হলুদের প্রধান উপাদান হলো কারকিউমিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপাদানটি শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে অদ্বিতীয়। বার্ধক্যের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং ইনফ্লামেশন। নিয়মিত গোল্ডেন মিল্ক খেলে মস্তিষ্কের কোষগুলো সক্রিয় থাকে, ফলে অ্যালঝাইমার্স বা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি কমে। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে গভীর ঘুম আনতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে মানসিক চাপ কমিয়ে ত্বক ও শরীরকে তরুণ রাখে।

গোলমরিচের সেই গোপন রহস্য: অনেকেই শুধু দুধ আর হলুদ মিশিয়ে খান, কিন্তু তাতে শতভাগ সুফল পাওয়া যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদের কারকিউমিন শরীর সহজে শোষণ করতে পারে না। যদি হলুদের সঙ্গে এক চিমটি গোলমরিচ মেশানো হয়, তবে গোলমরিচে থাকা ‘পিপারিন’ হলুদের কার্যকারিতা প্রায় ২০০০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই পানীয় তৈরির সময় এক চিমটি গোলমরিচ যোগ করা অপরিহার্য।

কীভাবে তৈরি করবেন এই মহৌষধ? একটি পাত্রে এক কাপ খাঁটি দুধ গরম করে তাতে আধা চা-চামচ প্রাকৃতিক হলুদ গুঁড়ো এবং এক চিমটি গোলমরিচ মিশিয়ে নিন। স্বাদের জন্য সামান্য মধু যোগ করতে পারেন। রাতে ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে এই পানীয় পান করুন। টানা এক মাস খেলে শরীরের জয়েন্টের ব্যথা এবং ফোলাভাব কমতে শুরু করবে। আর তিন মাসের নিয়মিত অভ্যাসে আপনার মনোযোগ এবং চিন্তাভাবনা হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি তীক্ষ্ণ।