মাঝরাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি লাথি! বর্ধমানে তুঙ্গে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র পুলিশলাইন মোড়

আসন্ন নির্বাচনের উত্তাপ বাড়তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পূর্ব বর্ধমান। বুধবার বর্ধমান শহরের পুলিশলাইন মোড় এলাকায় প্রচারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল তৃণমূল ও বিজেপি। রাস্তায় ফেলে কর্মীদের মারধর ও এলোপাথাড়ি লাথি মারার চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলাজুড়ে। সংঘর্ষে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

বিজেপির অভিযোগ ও ‘শ্যামল ফ্যাক্টর’: বিজেপির দাবি, এদিন সকালে পুলিশলাইন মোড় সংলগ্ন এলাকায় ‘গৃহসম্পর্ক অভিযান’ চালাচ্ছিলেন তাঁদের কর্মীরা। অভিযোগ, সেই সময় বর্ধমান শহর তৃণমূলের সহ-সভাপতি শ্যামল রায় ও তাঁর অনুগামীরা অতর্কিতে প্রচারকারীদের ওপর চড়াও হন। জেলা বিজেপির সম্পাদক দেবজ্যোতি সিংহরায়ের দাবি, “শ্যামল রায় আগে বিজেপিতেই ছিলেন, দু’বছর আগে তৃণমূলে গিয়ে এখন বড় নেতা সাজার চেষ্টা করছেন। আমাদের কর্মীদের একা পেয়ে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে।” পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তৃণমূল নেতা ও কর্মীরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন বলে বিজেপির দাবি।

তৃণমূলের পালটা যুক্তি: সব অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতা শ্যামল রায় পালটা দাবি করেছেন, পরিকল্পনা করে হামলা চালিয়েছে বিজেপিই। তাঁর বক্তব্য, “আমরা দেওয়াল লিখনের কাজ করছিলাম। হঠাৎ খোকন সেনের নেতৃত্বে কিছু বহিরাগত এসে আমাদের চুনকাম করা দেওয়ালে জোর করে স্টিকার লাগিয়ে দেয়। বাধা দিতে গেলে আমাকে ও বিধায়ককে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।”

এই ঘটনায় বর্তমানে থমথমে এলাকা। পুলিশলাইন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বর্ধমানের এই দলীয় কোন্দল ও হিংসার ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।