আকাশপথে ভারতের রাজত্ব! দেশেই জন্ম নেবে বিশ্বের শক্তিশালী ‘এইচ ১২৫’ হেলিকপ্টার, ঘোষণা মোদী-ম্যাক্রোঁর

প্রতিরক্ষা এবং বিমান পরিবহণ শিল্পে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করল ভারত। মঙ্গলবার কর্ণাটকের ভেমাগালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যৌথভাবে ‘এয়ারবাস এইচ ১২৫’ (Airbus H125) হেলিকপ্টারের ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইনের উদ্বোধন করেছেন। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড এবং ফরাসি সংস্থা এয়ারবাসের এই যৌথ উদ্যোগে ভারত এখন বিশ্বের আকাশপথের বড় খেলোয়াড় হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

কেন এই ‘এইচ ১২৫’ এত বিশেষ? এই হেলিকপ্টারের ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পেতে গেলে একটি তথ্যই যথেষ্ট— ২০০৫ সালের ১৪ মে এটি মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় অবতরণ করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল। ঘণ্টায় ২৫২ কিমি গতিতে ছুটতে সক্ষম এই কপ্টারটি এক টানা ৪ ঘণ্টা ২৭ মিনিট আকাশে থাকতে পারে। এক পাইলট ও ছয়জন যাত্রী নিয়ে এটি ৬৬২ কিমি পথ অনায়াসেই পাড়ি দিতে পারে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং এভারেস্টের মতো উচ্চতায় ওড়ার ক্ষমতার জন্য এটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ভেমাগালের এই কারখানা থেকে ২০২৭ সালের শুরুতেই প্রথম হেলিকপ্টারটি বেরোবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বছরে ১০টি হেলিকপ্টার তৈরি হলেও, আগামী ২০ বছরের মধ্যে অন্তত ৫০০টি ‘এইচ ১২৫’ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ব্যবহারই নয়, ভারতীয় সেনার জন্য এর আরও উন্নত সংস্করণ ‘এইচ ১২৫এম’ তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে দুই দেশের।

প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আরও গতি: হেলিকপ্টারের পাশাপাশি এ দিন মহাকাশ গবেষণা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা হয়েছে। ফরাসি সংস্থা এক্সোট্রেল ভারতের ধ্রুব স্পেস ও পিক্সেলের মতো স্টার্টআপগুলিকে প্রপালশন সিস্টেম সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে দাসো অ্যাভিয়েশনের রাফাল যুদ্ধবিমান এবং সাবমেরিন চুক্তি নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। সব মিলিয়ে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অভিযানে এই প্রকল্প এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।