শালিমার স্টেশনে ঢোকার মুখেই ভয়ঙ্কর বিপত্তি! লাইনচ্যুত যাত্রীবোঝাই ট্রেন, অল্পের জন্য রক্ষা

বুধবার সকালে অফিস টাইমের ব্যস্ততার মাঝেই বড়সড় দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শালিমার স্টেশন। সাঁতরাগাছি থেকে শালিমার আসার পথে স্টেশনে ঢোকার মুখেই লাইনচ্যুত হয়ে গেল একটি লোকাল ট্রেন। ঘড়িতে তখন প্রায় পৌনে এগারোটা। ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকার মুখে ট্রেনের পিছন দিক থেকে তিন নম্বর কামরাটি আচমকাই বেলাইন হয়ে যায়। ট্রেনের গতি কম থাকায় রক্ষা পেলেও, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

অল্পের জন্য এড়ানো গেল প্রাণহানি: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, স্টেশনে ঢোকার মুখে ট্রেনের গতি অত্যন্ত কম ছিল। কামরাটি বেলাইন হওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ লাইনের ওপর দিয়ে ঘষতে ঘষতে এগিয়ে যায় ট্রেনটি। এই প্রবল ঘর্ষণের ফলে ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একাংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তবে ট্রেনের গতি বেশি থাকলে বড়সড় প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

রেলের বয়ান ও ধোঁয়াশা: ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত পৌঁছান রেলের ইঞ্জিনিয়াররা। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ওমপ্রকাশ চরণ জানিয়েছেন, একটি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে। রেলের দাবি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে কোনো যাত্রী ছিল না, ফলে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে স্থানীয় ও যাত্রীদের একাংশের দাবি, অফিস টাইমে ট্রেনটিতে ভিড় ছিল। কেন এবং কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

রেলে দুর্ঘটনার ঘনঘটা: সাম্প্রতিক অতীতে রেলের একের পর এক বিপত্তি যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। গত রবিবারই কাটোয়া স্টেশনে একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনে বিধ্বংসী আগুন লেগে কামরা ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল। আবার মঙ্গলবার মধ্যরাতে বালি হল্ট স্টেশনে একটি দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই শালিমারের এই লাইনচ্যুতির ঘটনা রেলের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করল।