বিয়ে না হলেই কি ধর্ষণ? যুগান্তকারী রায় কলকাতা হাইকোর্টের; মুখ পুড়ল প্রেমিকার!

পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের শারীরিক সম্পর্ক যদি পরবর্তীতে বিয়েতে না গড়ায়, তবে তাকে কোনোভাবেই ‘ধর্ষণ’ বলা যাবে না। এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমনই রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাসের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি নিজেদের ইচ্ছেতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মতো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান, তবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।
মামলাটির প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা আইপিসি-র ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৩১৩ (জোরপূর্বক গর্ভপাত) এবং ৫০৬ (হুমকি) ধারায় মামলা করেছিলেন। মহিলার অভিযোগ ছিল, ২০১৮ সালে তাঁকে মদ্যপান করিয়ে প্রথমবার জবরদস্তি শারীরিক সম্পর্ক করা হয় এবং পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচ বছর ধরে তা চালিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে বিচারপতি মামলার কেস ডায়েরি এবং যুগলের ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দিঘা, গোয়ার মতো বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের নথিপত্র খতিয়ে দেখে ভিন্ন পর্যবেক্ষণ দেন। আদালতের বক্তব্য, মহিলা শিক্ষিত এবং প্রাপ্তবয়স্ক। ২০১৮ সালে প্রথমবার ‘জবরদস্তি’ করার অভিযোগ করলেও, তিনি কেন পরের চার বছর ওই ব্যক্তির সঙ্গে স্বেচ্ছায় হোটেলে রাত কাটালেন বা ঘুরে বেড়ালেন? বিচারপতি আরও জানান, গর্ভপাতের সময়ও মহিলা কোনো আপত্তি করেননি, যা প্রমাণ করে এতে তাঁর সম্মতি ছিল।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, “একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানেই তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ দিয়ে ধর্ষণের তকমা দেওয়া যায় না।” অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কের পর সম্পর্কের অবনতি হলে অপরাধমূলক ধারা প্রয়োগ করা আইনের অপব্যবহার মাত্র।