ভারতে আর হবে না বিশ্বকাপ? পাকিস্তান-বাংলাদেশ বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ICC!

বিশ্ব ক্রিকেটে এক চরম অস্থিরতার আবহ তৈরি হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক তিক্ততা এবার আইসিসি ইভেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার গুরুতর পরিকল্পনা করছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি (ICC)। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের অনড় মনোভাব।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যুগ্মভাবে আয়োজিত হওয়ার কথা থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের নাটকই এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পাকিস্তান দল ভারতে এসে খেলতে অস্বীকার করেছে। একই পথে হেঁটেছে বাংলাদেশও, যার ফলে এবারের টুর্নামেন্ট থেকে তাদের কার্যত বাদ পড়তে হয়েছে। দুই শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশের অনুপস্থিতিতে টুর্নামেন্টের জৌলুস যেমন কমেছে, তেমনই আইসিসি-কে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আইসিসি মনে করছে, ভারতে ভবিষ্যতে বড় কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা মানেই ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-বাংলাদেশ সংঘাতের কারণে সূচি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়া। গত বছর ভারত যেমন পাকিস্তানের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে যেতে অস্বীকার করেছিল, ঠিক তেমনই পাকিস্তানও এবার ভারতে না আসার সিদ্ধান্তে অনড়। সূত্রের খবর, দুই দেশের মধ্যে এমন এক অলিখিত চুক্তি হয়েছে যে, কোনো পক্ষই অন্য পক্ষের মাটিতে পা রাখবে না। এর ফলে আইসিসি-কে বারবার নিরপেক্ষ ভেন্যু খুঁজতে হচ্ছে, যা টুর্নামেন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে এক বিশাল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অচলাবস্থা কাটাতে আইসিসি এখন অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকছে। ২০১৫ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অজিদের। উন্নত পরিকাঠামো, আধুনিক স্টেডিয়াম এবং প্রচুর সংখ্যক দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের উপস্থিতির কারণে অস্ট্রেলিয়াকে আইসিসি ইভেন্টের জন্য আদর্শ ও ‘নিরপেক্ষ’ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত ভারত থেকে বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সরে যায়, তবে তা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই-এর (BCCI) জন্য বড় ধাক্কা হবে সন্দেহ নেই। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে এবং রাজনৈতিক জটিলতা এড়াতে আইসিসি এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছুপা হবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।