অমাবস্যার ভরা কোটালে সুন্দরবনে আতঙ্ক! গোমর নদীর বাঁধে বিশাল ধস, তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে বিনিদ্র রাত গ্রামবাসীদের

অমাবস্যার ভরা কোটাল আর গোমর নদীর উত্তাল ঢেউয়ের জোড়া ফলায় ফের বিপন্ন সুন্দরবন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা ব্লকের পাখিরালয় এলাকায় নদীবাঁধে প্রায় ৪০ ফুট জুড়ে ধস নামায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নদীবাঁধই যেখানে জীবনরেখা, সেখানে এমন ধস সুন্দরবনের মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেচ দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা।

তৎপরতা ও প্রাথমিক মেরামতি: ধস নামার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীরা ভয়ে জড়ো হতে থাকেন। কোটালের জেরে নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি চলে আসায় আতঙ্ক আরও বাড়ে। তবে সেচ দফতর দ্রুত সক্রিয় হয়ে বালিভর্তি জিওব্যাগ এবং মাটি ফেলে ধসে যাওয়া অংশটি আটকে দেয়। সেচ দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আপাতত গ্রামে জল ঢোকার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে কোটাল চলায় পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বিস্ফোরক অভিযোগ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি: জেলা পরিষদের সদস্য অনিমেষ মণ্ডল জানিয়েছেন, পাখিরালয় এলাকার পুরোনো খেয়াঘাট সংলগ্ন এই বাঁধ দীর্ঘদদিন ধরেই নড়বড়ে ছিল। তাঁর অভিযোগ, এই এলাকায় ইন্দো-বাংলা জলপথ দিয়ে যাতায়াত করা ভারী পণ্যবাহী জাহাজের ঢেউয়ের ধাক্কাতেই নদীবাঁধে ধস নেমেছে। পাখিরালয় ছাড়াও জ্যোতিরামপুর, হেতালবেড়িয়া ও উত্তরডাঙার বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের কবলে। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানালেও স্থায়ীভাবে কংক্রিটের বাঁধ না হওয়ার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা। সুন্দরবনবাসীর প্রশ্ন—প্রতিবার তালি মারা অস্থায়ী মেরামতি দিয়ে আর কতদিন রক্ষা পাবে তাঁদের ঘরবাড়ি?