ভোটের আগেই রণক্ষেত্র তৈরির ছক? বিহারে হানা দিয়ে হাড়হিম করা আগ্নেয়াস্ত্র কারখানার হদিশ পেল কলকাতা পুলিশ!

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বাংলা ও বিহারের সীমান্তে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অস্ত্র পাচারকারী চক্র। তবে ভোট শুরুর আগেই বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করে দিল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। বিহার এসটিএফ-এর সঙ্গে যৌথ অভিযানে ভাগলপুর জেলায় হানা দিয়ে একটি বিশাল অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কারখানার হদিশ পেলেন গোয়েন্দারা। এই অভিযানে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।

স্পিনিং মিলের আড়ালে মরণফাঁদ: তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিহারের ভাগলপুর জেলার মধুসূদনপুর থানার রহমতবাগ গ্রামে মহম্মদ নাসির আনসারির বাড়িতে চলত এই গোপন কারবার। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার জন্য বাড়ির নিচে একটি স্পিনিং মিল বা সুতো কাটার কল চালানো হতো। কিন্তু সেই মিলের শব্দকে কাজে লাগিয়েই প্রথম তলায় চলত লেদ ও ড্রিল মেশিনের গর্জন, যেখানে তৈরি হতো দেশি ও বিদেশি ধাঁচের পিস্তল।

গ্রেফতার ও উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম: কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (এসটিএফ) ভি সলেমন নেশাকুমার জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে রয়েছে মহম্মদ মনাজির, মহম্মদ শাদাব আলি ওরফে সাদ্দাম, মহম্মদ আসলাম ওরফে টিংকু, মহম্মদ সামশের আলম ওরফে ছোটু এবং মহম্মদ শাহনওয়াজ। এদের অধিকাংশেরই আদি বাড়ি কুখ্যাত অস্ত্র তৈরির গড় মুঙ্গেরে। ঘটনাস্থল থেকে ২০টি অর্ধসমাপ্ত ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ৮টি পিস্তল ব্যারেল, লেদ মেশিন, মিলিং মেশিন এবং ড্রিলিং মেশিন উদ্ধার হয়েছে। যা দেখে স্পষ্ট যে, অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় এখানে গণহারে অস্ত্র তৈরি হচ্ছিল।

নির্বাচনী নাশকতার আশঙ্কা: গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া অর্ধসমাপ্ত পিস্তলগুলি দ্রুত শেষ করে বিভিন্ন জেলায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং বাংলার কোন কোন রাজনৈতিক অপরাধীর সঙ্গে এদের যোগাযোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ। ভোটের আগে এই সাফল্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় জয় হিসেবে দেখছে লালবাজার।