পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: ভোটে লড়তে চান? পকেটে কত টাকা আর কী কী নথিপত্র লাগবে দেখুন

সামনেই ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। রাজনীতির ময়দান ইতিমধ্যেই তপ্ত হতে শুরু করেছে। পাড়ার মোড় থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—সর্বত্রই এখন একটাই আলোচনা, “কে হবে এবারের বিধায়ক?” তবে শুধু আলোচনা নয়, আপনার মনেও যদি সুপ্ত কোনো রাজনৈতিক বাসনা থাকে এবং আপনি যদি মনে করেন যে আপনিও নির্বাচনী ময়দানে নামতে প্রস্তুত, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ভারতের গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হল, একজন সাধারণ নাগরিক চাইলেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। কিন্তু তার জন্য রয়েছে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট কিছু কড়া নিয়ম।
কারা হতে পারবেন প্রার্থী? বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আপনাকে প্রথমেই ভারতের নাগরিক হতে হবে। প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২৫ বছর। এ ছাড়া, আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো একটি নির্বাচনী এলাকার নিবন্ধিত ভোটার হতে হবে। তবে মজার বিষয় হল, আপনি যে এলাকা থেকে ভোট লড়ছেন, সেই নির্দিষ্ট এলাকারই ভোটার হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো প্রান্তের ভোটার হয়ে অন্য যেকোনো আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে এবং কোনো আদালত দ্বারা ‘দেউলিয়া’ ঘোষিত হওয়া চলবে না। এ ছাড়া, কোনো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে দুই বছর বা তার বেশি মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে লড়তে পারেন না।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া: মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা (Affidavit – Form 26) জমা দিতে হয়। এই নথিতে আপনার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং আপনার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা চলছে কি না, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হয়। আপনি যদি কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হন, তবে সেই দলের ‘সিম্বল’ বা প্রতীকের শংসাপত্র প্রয়োজন। আর যদি নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়তে চান, তবে বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওই কেন্দ্রের অন্তত ১০ জন ভোটারের প্রস্তাবক হিসেবে সমর্থন প্রয়োজন হয়।
জামানত ও অন্যান্য নিয়ম: নির্বাচনে দাঁড়াতে গেলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ বা জামানত হিসেবে জমা রাখতে হয়। বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য এই অঙ্ক ১০,০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি (SC) ও তপশিলি উপজাতি (ST) প্রার্থীদের জন্য ৫,০০০ টাকা। যদি কোনো প্রার্থী মোট বৈধ ভোটের অন্তত এক-ষষ্ঠাংশ (১৬.৬৬%) পেতে ব্যর্থ হন, তবে সেই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এছাড়া, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ দুটি আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে পারেন। তবে দুটি আসনেই জয়ী হলে ফলাফলের ১০ দিনের মধ্যে একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়। ডিজিটাল যুগে এখন নির্বাচন কমিশনের ‘সুবিধা’ (Suvidha) পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমেও অনলাইনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপগুলি সম্পন্ন করা যায়।