পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি! দোল পূর্ণিমার পরে কি আরও বিপাকে পড়তে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি। ইডি বনাম রাজ্য সরকারের এই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৮ মার্চ। অর্থাৎ, দোল উৎসবের পরেই এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। বুধবার শুনানি চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, কেন্দ্রীয় সংস্থা আজকের মধ্যেই তাদের ‘রিজয়েন্ডার’ ফাইল করবে। অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে পাল্টা সওয়াল করে জানতে চাওয়া হয়, ইডি কীভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা আগে স্পষ্ট করা হোক।
বিতর্কের সূত্রপাত ও মুখ্যমন্ত্রীর ‘হস্তক্ষেপ’:
ঘটনার সূত্রপাত আর্থিক তছরুপের মামলায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশিকে কেন্দ্র করে। তল্লাশি চলাকালীন আচমকাই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে বাধা দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি কেড়ে নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংস্থা এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে দাবি করেছে যে, সাংবিধানিক পদে থেকে তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘দলের নথিপত্র ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্র’:
সেদিন আইপ্যাক অফিস থেকে বেরোনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের সামনে সাফ জানিয়েছিলেন, ওই ফাইলগুলিতে তাঁর দলের নির্বাচনী রণকৌশল সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপন নথি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ ছিল, ইডি সেগুলি বেআইনিভাবে হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। দলের স্বার্থেই তিনি সেই ফাইলগুলি নিজের হেফাজতে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইডির সঙ্গে নজিরবিহীন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে নবান্ন।
রাজপথে প্রতিবাদ ও কড়া হুঁশিয়ারি:
আইপ্যাক অফিসে ইডি হানার প্রতিবাদে পরদিনই যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে বিশাল মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই বিজেপিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “আমাকে আঘাত করলে আমি পুনর্জীবন পাই। কী করবে তোমরা? আমাকে জেলে ভরবে?” এই লড়াই যে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়বেন, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
কেন বারবার পিছোচ্ছে শুনানি?
এর আগে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত সেই আবেদনে সাড়া দিলেও আজ সলিসিটর জেনারেলের নথিপত্র জমার প্রক্রিয়ার কারণে তা ফের ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে গেল। এখন দেখার, দোল পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নিয়ে কী পর্যবেক্ষণ দেয়।