“আমার শরীরের এমন দুটো অঙ্গ বাদ গিয়েছে… যেটা বললে লজ্জা পাবেন!” বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলার মসনদে টানা ১৫ বছর। ২০১১ সালে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বাঙালি মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে অষ্টম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সফর যে গোলাপ বিছানো ছিল না, তা ফের একবার উঠে এল তাঁর কথায়। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাই এবং শারীরিক যন্ত্রণার এক অজানা অধ্যায় উন্মোচন করেছেন তিনি।

রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও সেই বিস্ফোরক উক্তি:
কলেজ জীবন থেকে রাজনীতিতে পা রাখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারে বারে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে বাম আমলে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তাঁর ওপর হওয়া শারীরিক অত্যাচারের কথা গোটা দেশ জানে। কিন্তু এবারের সাক্ষাৎকারে তিনি যা বললেন, তা রীতিমতো স্তম্ভিত করার মতো। নিজের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার কথা বলতে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আমার শরীরের এমন দুটো পার্ট (অঙ্গ) বাদ গিয়েছে… যেটা বললে লোকে লজ্জা পাবে।” বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন দিনের পর দিন অনশন এবং পুলিশের লাঠিচার্জে তাঁর শরীর যে কতটা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, এই একটি মন্তব্যেই তা স্পষ্ট।

রাজনীতিতে সৌজন্যের অভাব:
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনবার শপথ নিলেও মমতার লড়াই আজও জারি। তবে আজকের রাজনীতির ময়দান দেখে তিনি কিছুটা হতাশ। তাঁর কথায়, অতীতের রাজনীতিতে ‘সৌজন্য’ ছিল। মমতা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন আমি নির্দ্বিধায় তাঁর কাছে প্রয়োজনে ছুটে যেতে পারতাম। আজও আমি বাম আমলের বর্ষীয়ান নেতাদের খোঁজখবর নিই। কিন্তু বর্তমানে সেই সৌজন্যের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিকদের মধ্যে এখন আর আগের মতো সৌহার্দ্য নেই।”

সিঙ্গুর থেকে ‘মা-মাটি-মানুষ’:
২০০৬ সালে টাটাদের ন্যানো প্রকল্পের জন্য জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ঐতিহাসিক জেদই বামফ্রন্টের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০০৮ সালে টাটাদের সিঙ্গুর ছাড়তে বাধ্য করা থেকে শুরু করে ২০১১-তে মহাকরণ দখল—এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তিনি বারে বারে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসেছেন। ১৯৮৪ সালে যাদবপুর কেন্দ্রে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে সর্বকনিষ্ঠ সাংসদ হওয়া থেকে শুরু করে আজকের ‘বাংলার দিদি’ হয়ে ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁকে লড়তে হয়েছে দুর্ভেদ্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে। ১৫ বছরের শাসনকালে বর্তমানে তিনি কেন্দ্রের বঞ্চনা বা এসআইআর (SIR) বিতর্কে ফের রাজপথে থাকলেও, ফেলে আসা দিনগুলোর লড়াইয়ের ক্ষত যে আজও তাঁর শরীরে রয়ে গিয়েছে, তা এই সাক্ষাৎকারে আরও একবার প্রমাণিত হলো।