দিল্লিতে সুন্দর পিচাই! ‘গ্লোবাল এআই সামিট’-এ বিশেষ চমক দিতে ভারতে গুগল সিইও

২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশ নিতে বুধবার ভারতের রাজধানীতে পা রাখলেন গুগল ও অ্যালফাবেট-এর সিইও সুন্দর পিচাই। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এই বিশ্বমানের সম্মেলনে বিশেষ বক্তৃতা দেবেন তিনি। ভারতের মাটিতে পা রেখেই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পিচাই। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, “এআই সামিটের জন্য ফের ভারতে আসতে পেরে ভালো লাগছে। বরাবরের মতোই উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলাম। এখানকার সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদনও বেশ চমৎকার।”
প্রধানমন্ত্রীর মুখে এআই-এর ভবিষ্যৎ:
অন্যদিকে, এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর প্রভাব নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভারতের অর্থনীতি ও রপ্তানি বাণিজ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র বরাবরই মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সামনে এআই যেমন নতুন সম্ভাবনা খুলে দিচ্ছে, তেমনই কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। মনে করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্ষেত্রটি ৪০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।” মোদীর এই মন্তব্য ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারত মণ্ডপমে বিশ্ব সম্মেলন:
নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ‘ভারত মণ্ডপমে’ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এই মেগা ইভেন্ট, যা চলবে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই প্রথম ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কোনও দেশে এত বড় মাপের এআই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের মূল মন্ত্র রাখা হয়েছে— ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’, অর্থাৎ প্রযুক্তির সুফল যেন সকলের কাছে পৌঁছায়।
সম্মেলনের লক্ষ্য ও উপস্থিতি:
জানা গিয়েছে, এই সম্মেলনে ১১০টিরও বেশি দেশ এবং ৩০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশ নিচ্ছে। উপস্থিত থাকছেন ২০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও ৪৫ জন মন্ত্রী। মূলত তিনটি স্তম্ভ— মানুষ (People), ধরিত্রী (Planet) এবং প্রগতি (Progress)-র ওপর ভিত্তি করে এই আলোচনার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, এমন প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো গড়ে তোলা যা মানুষের অধিকার রক্ষা করবে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং সমাজের সর্বস্তরে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেবে। সুন্দর পিচাইয়ের উপস্থিতি এই সম্মেলনকে এক অনন্য মাত্রা প্রদান করল।