বিমান বসুর ফোনও ধরলেন না প্রতীক? আলিমুদ্দিনে না গিয়ে কোথায় যাচ্ছেন ‘লড়াকু’ নেতা?

ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় ভূমিকম্প। সিপিআইএম-এর তরুণ তুর্কী তথা এসএফআই-এর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি প্রতীক উর রহমানের দল ছাড়ার জল্পনায় তোলপাড় আলিমুদ্দিন। গত সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে তাঁর একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বাম অলিন্দে অস্বস্তি শুরু হয়। জল্পনার আগুনে ঘি ঢাললেছেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, যিনি নিজেই ওই চিঠি পোস্ট করে প্রতীকের দলত্যাগের দাবি তোলেন।

বিমান বসুর ডাক উপেক্ষা? সংকট মোকাবিলায় স্বয়ং আসরে নেমেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। মঙ্গলবার একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন গিয়েছিল প্রতীকের কাছে। বিমানবাবু তাঁকে সরাসরি আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এসে কথা বলার নির্দেশ দেন। কিন্তু সূত্রের খবর, বর্ষীয়ান নেতার আদেশ ‘শিরধার্য’ বললেও মঙ্গলবার মুজফফর আহমেদ ভবনে যাননি প্রতীক। বুধবার রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী এবং বৃহস্পতিবার থেকে দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক রয়েছে। প্রতীক রাজ্য কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সেখানে তিনি যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তৃণমূলে যোগ ও মগরাহাটের প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে প্রবল আলোচনা, প্রতীক উর রহমান সম্ভবত তৃণমূলের টিকিটে মগরাহাট থেকে বিধানসভায় দাঁড়াতে চলেছেন। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে প্রতীক রহস্য বজায় রেখে বলেন, “সময়ই সব উত্তর দেবে।” তবে বন্ধু সৃজন ভট্টাচার্যের দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তাঁদের ‘অর্বাচীন’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

কেন চিন্তায় আলিমুদ্দিন? মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে যখন দল নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন প্রতীক উরের মতো সংখ্যালঘু সমাজ থেকে উঠে আসা লড়াকু নেতার প্রস্থান দলের জন্য বড় ধাক্কা। গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন তিনি। দক্ষিণবঙ্গের নেতাদের মতে, ভোটের মুখে প্রতীকের মতো মুখ সরে গেলে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভুল বার্তা যাবে। এখন দেখার, সূর্যকান্ত মিশ্র বা বিমান বসুর মধ্যস্থতায় বরফ গলে কি না।