‘আপনারা ৪২০ ভোল্ট হলে আমি ৪৪০!’ নবান্ন থেকে কমিশন ও বিজেপিকে বেনজির আক্রমণ মমতার

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা নিয়ে কমিশনকে ‘তুঘলকি’ ও ‘হিটলারি’ তকমা দিয়ে তাঁর প্রশ্ন, “বিহারে যে ফ্যামিলি রেজিস্টার বা নথি গ্রাহ্য হয়, বাংলায় কেন তা অগ্রাহ্য করা হচ্ছে?” মমতার সাফ কথা, বাংলা কি দিল্লির জমিদারদের ‘মগের মুলুক’?

ভোটার বাতিলের ষড়যন্ত্র ও এআই বিতর্ক: মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একজন ‘বিজেপি কন্যা’ কমিশনের চেয়ারে বসে এআই (AI) ব্যবহার করে বাংলার ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিল করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মাইনরিটি, তপশিলী এবং সাধারণ গরিব মানুষের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হচ্ছে। মমতার প্রশ্ন, “জ্যান্ত মানুষকে চিতা বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে? সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারও কি মানবে না কমিশন?”

কমিশনকে কড়া আক্রমণ: নির্বাচন কমিশনকে ‘টর্চার কমিশন’ বলে তোপ দেগে মমতা বলেন, “ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার—খালি হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ আসছে। ইআরও (ERO), বিএলও (BLO)-দের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমলাদের বলা হচ্ছে চাকরি থাকবে না। আমি বলছি, আপনাদের চাকরি থাকবে তো?” তিনি আরও জানান, কমিশন বাউন্ডারির বাইরে গেলে জনগণ এবার ‘ছক্কা’ মারবে।

বিজেপি ও পেগাসাস প্রসঙ্গ: বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওদের সাইকোলজিক্যাল সমস্যা আছে। পেগাসাস আমরা করি না, ওরাই করে। বেটি বাঁচাওয়ের টাকা কোথায় গেল?” মণিপুর ইস্যু এবং পুলওয়ামা নিয়েও কেন্দ্রকে বিঁধেছেন তিনি। মমতা হুঁশিয়ারি দেন, “আপনারা কেউ ৪২০ ভোল্ট হতে পারেন, কিন্তু মনে রাখবেন আমি ৪৪০ ভোল্ট। আমার ওপর প্রতিশোধ নিন, জনগণের ওপর নয়।”

আগামীর লড়াই: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি জেলে যেতে প্রস্তুত কিন্তু আত্মসমর্পণ করবেন না। গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়াকে তিনি ‘রাবণের সীতাহরণের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর পর কেন্দ্রে এই সরকার আর থাকবে না। মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি বিশ্বজুড়ে প্রচার করবেন বলেও ঘোষণা করেন।