সোহমের বিরুদ্ধে ৬৮ লাখ টাকা হাতানোর বিস্ফোরক অভিযোগ! বিপাকে তৃণমূল বিধায়ক, কী এই ‘পাকা দেখা’ বিতর্ক?

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই এবার আইনি জটিলতায় নাম জড়াল অভিনেতা-বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর। ‘পাকা দেখা’ নামক একটি ছবিতে বিনিয়োগের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ তুলে চারু মার্কেট থানায় এফআইআর করেছেন শাহিদ নামক এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, বারবার টাকা চেয়েও লাভ হয়নি, উল্টে জুটেছে হুমকি। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের’ তত্ত্ব খাড়া করেছেন সোহম।
অভিযোগকারীর বক্তব্য: টিভি৯ বাংলাকে শাহিদ জানিয়েছেন, ২০২১ সালে ‘পাকা দেখা’ ছবিতে বিনিয়োগের জন্য সোহম চক্রবর্তী এবং অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায়কে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছিলেন তিনি। ঘটনাক্রমে এরপর এসএসসি (SSC) দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন শাহিদ। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি তাঁর বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু হয় বলে অভিযোগ। শাহিদের দাবি, “সোহমবাবুর কাছে এখনও আমার ৬৮ লক্ষ টাকা পাওনা। সেই টাকা ফেরত চাইলে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়েই আমি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।”
পালটা জবাবে যা বললেন সোহম: অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী জানিয়েছেন, হুমকি দেওয়ার কথাটি ডাহা মিথ্যা। তাঁর সাফ কথা, শাহিদ মাঝপথে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় ছবি তৈরিতে চরম সমস্যা হয়েছিল। সোহমের যুক্তি, “ছবির স্বত্ব বিক্রি করে যা টাকা এসেছে, তা থেকে প্রথমে তাঁদের মেটানো হয়েছে যারা চরম বিপদে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। শাহিদ জেলে থাকায় সেই সময় তাঁকে টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বেরনোর পর আমরা টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছি। কিন্তু বাংলা ছবির ব্যবসার যা অবস্থা, তাতে বাকি টাকা মেটানোর জন্য আমি কিছুটা সময় চেয়েছি। হুট করে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।”
রাজনীতির রং ও আইনি লড়াই: নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এই অভিযোগ? সোহমের দাবি, তাঁর সম্মানহানি করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে। এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে শাহিদ এবং তাঁর আইনজীবী আইনি পথেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। টলিউড থেকে রাজনীতি— সোহমের এই ‘টাকা বিতর্ক’ এখন সর্বত্র চর্চার বিষয়।