বাংলাদেশিদের জন্য খুলে যাচ্ছে শিলিগুড়ির দরজা! ওপার বাংলায় সরকার বদলাতেই কি বরফ গলল উত্তরবঙ্গে?

দীর্ঘ টানাপড়েন আর কূটনৈতিক শীতলতার পর অবশেষে কাটল জট। বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন ও স্থায়ী সরকার গঠিত হতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল উত্তরবঙ্গের হোটেল ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী জমানায় বাংলাদেশিদের জন্য শিলিগুড়ির হোটেলের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবার সেই কড়া বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা করল ‘গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেল মালিক সংগঠন’।
কেন নেওয়া হয়েছিল বয়কটের সিদ্ধান্ত? বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর মহম্মদ ইউনূসের জমানায় ভারত-বিরোধী মনোভাব চরম আকার ধারণ করেছিল। কট্টর মৌলবাদীদের নিশানায় ছিল উত্তরবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘চিকেনস নেক’। এমনকি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দখলের মতো উস্কানিমূলক হুমকিও আসছিল ওপার বাংলা থেকে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৎকালীন সময়ে শিলিগুড়ির হোটেল ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের কোনো ঘর দেওয়া হবে না।
সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত: বাংলাদেশে সম্প্রতি নির্বাচিত সরকার গঠিত হওয়া এবং নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানোর পর থেকেই পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেল মালিক সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ জানান, “দুই বাংলা এক বৃন্তে দুটি কুসুম। ওপার বাংলার সঙ্গে আমাদের নাড়ির টান। কিন্তু যখন মৌলবাদীরা আমাদের দেশ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে টার্গেট করছিল, তখন কড়া সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বাধ্য হয়েছিলাম। এখন যেহেতু স্থায়ী সরকার এসেছে এবং সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে, তাই আমরা সেই ব্যান তুলে নিচ্ছি।”
শর্ত একটাই— মর্যাদা: ব্যবসার চেয়েও দেশপ্রেম যে বড়, তা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সংগঠনের এক্সিকিউটিভ মেম্বার রৌণক আগরওয়াল বলেন, “দেশ সবার আগে। পরিস্থিতির চাপে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখন দরজা খুলছে ঠিকই, তবে আমরা আশা করব বাংলাদেশি পর্যটকরা ভারতকে যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান দিয়েই এখানে আসবেন।” এই সিদ্ধান্তের ফলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায় যেমন জোয়ার আসবে, তেমনই দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াতও আবার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।