শিবলিঙ্গে চড়ানো ফল কি প্রসাদ হিসেবে খাওয়া উচিত? কেন বারণ করেন অনেকে? জানুন শাস্ত্রের অকাট্য ব্যাখ্যা

হিন্দুধর্মে দেবতাকে নিবেদিত প্রসাদ গ্রহণ করা পরম সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু মহাদেবের ক্ষেত্রে নিয়মটা ঠিক কী? যুগ যুগ ধরে একটি ধারণা প্রচলিত যে, শিবের প্রসাদ গ্রহণ করতে নেই। বিশেষ করে শিবলিঙ্গে সরাসরি অর্পিত ফল বা মিষ্টি কি সাধারণের খাওয়া উচিত? এই প্রশ্ন ভক্তদের মনে দীর্ঘদিনের। শিবপুরাণ এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর রহস্য।
কে এই চণ্ডেশ্বর? কেন এই বাধা? শিবপুরাণ অনুযায়ী, শিবের প্রসাদ নিয়ে এই বিভ্রান্তির মূলে রয়েছেন মহাদেবের অন্যতম গণ ‘চণ্ডেশ্বর’। শাস্ত্র মতে, শিবলিঙ্গের ওপর সরাসরি যা কিছু অর্পণ করা হয়, তার ওপর চণ্ডেশ্বরের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তাই সেই অংশ সাধারণ মানুষের গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। লোকমুখে প্রচলিত যে, শিবলিঙ্গের ওপর থেকে তুলে প্রসাদ খেলে তা ব্যক্তির অমঙ্গল করতে পারে। মূলত এই বিশ্বাসের কারণেই অনেকে শিবের প্রসাদ স্পর্শ করতে ভয় পান।
কখন শিবের প্রসাদ গ্রহণ করা অত্যন্ত পুণ্যের? শাস্ত্রে এই নিয়মেরও কিছু সূক্ষ্ম ভাগ রয়েছে। সব প্রসাদই কিন্তু বর্জনীয় নয়:
-
মূর্তি পূজা: মহাদেবের পূজা যদি শিবলিঙ্গের পরিবর্তে কোনো ধাতু বা পাথরের মূর্তিতে করা হয়, তবে সেই প্রসাদ গ্রহণে কোনো বাধা নেই।
-
শালগ্রাম শিলা: পূজার সময় শিবলিঙ্গের পাশে যদি শালগ্রাম শিলা রাখা থাকে, তবে সেই প্রসাদ পরম পবিত্র। মনে করা হয়, এই প্রসাদ গ্রহণ করলে সর্বপাপ বিনাশ হয়।
-
জ্যোতির্লিঙ্গ: কাশী বিশ্বনাথ বা বৈদ্যনাথের মতো বিখ্যাত জ্যোতির্লিঙ্গের প্রসাদ গ্রহণে কোনো বাধা নেই। সেখানে চণ্ডেশ্বরের অধিকার নিয়ে কঠোরতা দেখা যায় না।
সঠিক নিয়মটি কী? যদি শিবলিঙ্গের ওপর ফল বা বেলপাতা অর্পণ করার পর তা লিঙ্গ স্পর্শ করে নিচে পড়ে থাকে, তবে তা চণ্ডেশ্বরের অংশ বলে গণ্য হয়। কিন্তু ভক্তরা যদি নৈবেদ্য সরাসরি লিঙ্গের ওপর না রেখে পাশে কোনো পাত্রে নিবেদন করেন, তবে সেই প্রসাদ স্বচ্ছন্দে গ্রহণ করা যায়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, শিবের প্রসাদ দর্শনেও পুণ্য লাভ হয়। যদি কোনো কারণে প্রসাদ গ্রহণে মনে দ্বিধা থাকে, তবে তা জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া বা গাভীকে খাওয়ানোই শ্রেয়। তবে মনে রাখবেন, ভক্তিই শেষ কথা। শুদ্ধ চিত্তে মহাদেবকে স্মরণ করে কিছু গ্রহণ করলে তাতে অকল্যাণ হয় না বলেই মত শাস্ত্রজ্ঞদের।