“তারেকের শপথের মধ্যেই ফের হুমকি জামাতের, বাংলাদেশে ফের অচলাবস্থা?

বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই শুরু হলো প্রবল রাজনৈতিক অস্থিরতা। একদিকে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ, অন্যদিকে ‘জুলাই সনদ’ ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে শরিক দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি-র সঙ্গে সংঘাত— সব মিলিয়ে ঢাকার রাজপথ এখন অগ্নিগর্ভ।

শপথ বনাম বয়কট: কেন এই বিভাজন? ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২১২টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বিপত্তি বেধেছে সংস্কার প্রস্তাব বা ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে। বিএনপির নির্বাচিত সাংসদরা সংসদে শপথ নিলেও, ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নিতে সাফ অস্বীকার করেছেন। বিএনপির দাবি, সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় এমন কিছু বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যার সঙ্গে তারা একমত নয়।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে জামায়াত ও এনসিপি জোটের শরিকরা একযোগে বিএনপির মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করে। উল্লেখ্য, জামায়াত-এনসিপি জোট এবার ৭৭টি আসন পেয়েছে।

কী আছে এই ‘জুলাই সনদে’? গণভোটে ৬২ শতাংশ মানুষের সমর্থন পাওয়া এই সনদের মূল লক্ষ্য হলো— সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য ‘গণপরিষদে’ রূপান্তর করে সংবিধানের আমূল সংস্কার করা। জামায়াত ও এনসিপি-র অভিযোগ, বিএনপি এখন সংস্কারের পথ থেকে সরে গিয়ে ‘ফ্যাসিবাদী’ মনোভাব দেখাচ্ছে।

রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নোয়াখালীতে নির্বাচনী কারচুপি ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে জামায়াত। এনসিপির প্রধান সংগঠক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “আমরা ইঞ্জিনিয়ার তারিক রহমানকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করব। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না।” নারীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ও সংস্কারের দাবিতে তাঁরা রাজপথে বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ কী? বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলেও শরিকদের এই বিদ্রোহ তারেক রহমানের নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্কারের প্রশ্নে আপস না করার জেদ আর রাজপথের আন্দোলনের হুমকি— দুইয়ে মিলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের এক সংঘাতময় অধ্যায়ের ইঙ্গিত মিলছে।