উন্নয়নের গল্প শোনাতে গিয়েই বিপাকে তৃণমূল বিধায়ক! গ্রামবাসীদের বিক্ষোভে পিছু হটে তড়িঘড়ি সেতু নির্মাণ?

ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল পাহাড়প্রমাণ, কিন্তু জয়ের পর আর এলাকায় দেখা মেলেনি বিধায়কের। সম্প্রতি বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ শোনাতে গিয়েই গ্রামবাসীদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তালড্যাংরার তৃণমূল বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহ বাবু। গ্রামবাসীদের সেই ‘ঘেরাও’ আর ক্ষোভের আঁচ পেয়ে শেষমেশ টনক নড়ল প্রশাসনের। দীর্ঘদিনের পাকা সেতুর দাবি না মেটালেও, আপাতত তড়িঘড়ি একটি অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু তৈরি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টায় বিধায়ক।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও জনরোষ: বাঁকুড়ার মাদারিয়া, রঘুনাথপুর, ঝমকা সহ প্রায় ৮-১০টি গ্রামের মানুষকে প্রতিদিনের কাজে শিলাবতী নদী পেরিয়ে ওপারে যেতে হয়। স্কুল, হাসপাতাল বা বাজার—সবই নদীর ওপারে। বাম আমল থেকে তৃণমূল জমানা, বছরের পর বছর শুধু প্রতিশ্রুতিই পেয়েছেন মানুষ, কিন্তু মাদারিয়া ঘাটে মেলেনি কোনো পাকা সেতু। গ্রামবাসীদের নিজেদের তৈরি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই ছিল একমাত্র ভরসা, যা বর্ষায় ভেসে যেত। ২০২৪-এর উপনির্বাচনের সময় ফাল্গুনী সিংহ বাবু কথা দিয়েছিলেন জিতলে সেতু হবে। কিন্তু অভিযোগ, জেতার পর তিনি আর গ্রামমুখো হননি।

অ্যাকশন বনাম রাজনৈতিক চাপানউতোর: গত ১৭ জানুয়ারি বিধায়ক গ্রামে গেলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। বিধানসভা ভোটের আগে এই ক্ষোভ কাল হতে পারে বুঝে তিনি তড়িঘড়ি সাংসদ উন্নয়ন তহবিল থেকে টাকা বরাদ্দ করিয়ে হিউম পাইপ ও মোরাম দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু তৈরি করান। তবে গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, বর্ষায় কি এই সেতু টিকবে? নাকি ফের নৌকাতেই হবে নদী পারাপার?

এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার কটাক্ষ করে বলেন, “ভোট দোরগোড়ায়, তাই মানুষের ক্ষোভ সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিলের টাকায় নাম কুড়োচ্ছে তৃণমূল।” অন্যদিকে, বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহ বাবুর দাবি, “তৃণমূল কথা দিয়ে কথা রাখে, আপাতত এই সেতু সমস্যা মেটাবে। ভবিষ্যতে পাকা সেতুর জন্যও চেষ্টা চলছে।”