উচ্চশিক্ষিতা মা নন, মাছ ব্যবসায়ী বাবার কাছেই থাকবে সন্তান! হাইকোর্টের ‘নজিরবিহীন’ রায়

সাধারণত বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শিশু সন্তানের দায়িত্ব বা কাস্টডি মায়েদের দিকেই ঝোঁকে। কিন্তু এবার সেই চেনা ছক ভেঙে এক নজিরবিহীন রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বর্ধমানের এক দম্পতির মামলায় নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে ৮ বছরের পুত্রসন্তানের ভার উচ্চশিক্ষিতা মা নন, বরং মাছ ব্যবসায়ী বাবার হাতেই তুলে দিল আদালত। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু আবেগ বা ডিগ্রি নয়, শিশুর বর্তমান স্থিতিশীলতা ও বাস্তবতাই বিচার্য।

ইগোর লড়াইয়ে কি বিপন্ন শৈশব?

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সজল ও মৌসূমী (নাম পরিবর্তিত) দুজনেরই বয়স তিরিশের কোঠায়। ২০২১ সাল থেকে তাঁরা আলাদা থাকছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁদের মধ্যে একাধিক মামলা হয়েছে, যাকে বিচারপতিরা ‘ইগোর লড়াই’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নিম্ন আদালত আগে মায়ের পক্ষে রায় দিয়েছিল এই যুক্তিতে যে, মা উচ্চশিক্ষিতা এবং মায়ের অনুপস্থিতি শিশুর মনে দাগ কাটতে পারে। কিন্তু হাইকোর্ট সেই যুক্তি নাকচ করে দেয়।

কেন বাবার জয়?

হাইকোর্টের রায়ে উঠে আসা মূল পয়েন্টগুলো হলো:

  • অভ্যস্ত পরিবেশ: গত পাঁচ বছর ধরে শিশুটি তার বাবার কাছেই সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত।

  • বাস্তবতা বনাম আবেগ: শিশুর পড়াশোনার জন্য বাড়িতে গৃহশিক্ষক আছেন। হঠাৎ করে চেনা পরিবেশ থেকে সরিয়ে নিয়ে গেলে শিশুর ওপর মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

  • মায়ের সুযোগ: মা (যিনি পেশায় গানের শিক্ষিকা) কেবল শনিবার বিকেল থেকে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ছেলেকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তানকে বাবার কাছে ফেরাতে হবে।

আদালতের মানবিক বার্তা

আইনি লড়াইয়ের বাইরেও আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে মামলাটি মীমাংসা কমিটিতে পাঠিয়েছে। বিচারপতির আশা, ইগো সরিয়ে রেখে যদি দম্পতি আবার এক ছাদের তলায় আসেন, তবেই শিশুর ভবিষ্যৎ প্রকৃত অর্থে সুরক্ষিত হবে।