ঘরে ঘরে ফ্যাটি লিভারের আতঙ্ক! এই ৫টি খাবারেই লুকিয়ে আছে মুক্তির চাবিকাঠি

লিভার আমাদের শরীরের সেই ‘সাইলেন্ট ওয়ার্কার’, যা নিঃশব্দে দিনরাত কাজ করে চলে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিই এখন ফ্যাটি লিভারের কবলে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার’-এ আক্রান্ত। অর্থাৎ মদ্যপান না করলেও লিভারে জমছে ক্ষতিকারক চর্বি। বিখ্যাত চিকিৎসা পত্রিকা ‘দ্য ল্যানসেট’-ও দক্ষিণ এশিয়ায় এই রোগের দ্রুত বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এবং দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাসই এই রোগের মূল কারণ। প্রথম দিকে এর কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না, কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক আকার নিতে পারে। তবে আশার কথা হলো, শরীরের মোট ওজনের মাত্র ৭-১০ শতাংশ কমাতে পারলেই লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সুস্থ থাকতে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৫টি সুপারফুড: ১. সবুজ শাকসবজি: পালং, মেথি বা ব্রকোলির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের প্রদাহ কমায়। ২. গ্রিন টি: এতে থাকা ক্যাটেচিন লিভারের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সিদ্ধহস্ত। ৩. রসুন: রসুনের সালফার যৌগ লিভারের ফ্যাটের মাত্রা কমিয়ে বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। ৪. বাদাম: আখরোট বা কাঠবাদামের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ৫. হলুদ ও গোলমরিচ: হলুদের কারকিউমিন প্রদাহ কমায়, যা গোলমরিচের সঙ্গে খেলে বেশি কার্যকর হয়।
খাবারের পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম করা জরুরি। মনে রাখবেন, সঠিক ডায়েট আর শরীরচর্চাই পারে আপনার লিভারকে আবার সতেজ করে তুলতে।