নজর লাগা কি স্রেফ কুসংস্কার নাকি বাস্তব? বিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্ব যা বলছে শুনলে চমকে যাবেন!

নতুন গাড়ি কেনার পরদিনই আঁচড়, কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরেই বাচ্চার ধুম জ্বর—এমন পরিস্থিতিতে আমাদের মাথায় প্রথম যে শব্দটি আসে তা হলো ‘নজর লেগেছে’। শুধু এদেশেই নয়, ‘ইভিল আই’ বা কু-দৃষ্টির এই আতঙ্ক ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে। কেউ লেবু-লঙ্কা ঝোলান, কেউ তুরস্কের নীল পুঁতির কবজ ব্যবহার করেন, আবার কেউবা কপালে কালো টিপেই খোঁজেন সুরক্ষা। কিন্তু সত্যিই কি কারও চোখের দৃষ্টিতে নেতিবাচক শক্তি থাকে? নাকি পুরোটাই আমাদের মনের কল্পনা?
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সভ্যতাতেও এই নজর দোষের ধারণা ছিল। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, অন্যের সাফল্য বা সুখের প্রতি প্রবল ঈর্ষা থেকে এক ধরনের নেতিবাচক এনার্জি নির্গত হয়, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষতি করে। তবে আধুনিক মনস্তত্ত্ব এর এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ যখন জীবনের আকস্মিক কোনো অঘটন বা অনিশ্চয়তার সঠিক ব্যাখ্যা খুঁজে পায় না, তখন সে নিজের উদ্বেগ অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। এই ‘বাইরের শক্তির’ ওপর দায় চাপানোর প্রবণতাই হলো নজর দোষের মূল ভিত্তি।
মজার বিষয় হলো, নজর কাটানোর জন্য আমরা যে নুন-জল বা ধুনো ব্যবহারের মতো টোটকা মানি, তার পেছনে কাজ করে ‘প্লাসিবো এফেক্ট’। অর্থাৎ, আপনি বিশ্বাস করেন যে এই আচারে আপনার দোষ কেটে যাবে, আর সেই বিশ্বাস থেকেই আপনার মনে এক ধরণের প্রশান্তি আসে। এই মানসিক শান্তি শরীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যবসায়িক মন্দার পেছনে নজর দোষ খুঁজে সময় নষ্ট না করে বাস্তবসম্মত কারণ খোঁজা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বেশি জরুরি। আপনার ভয়ই অনেক সময় কু-দৃষ্টির চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারে।