‘চার্জশিট – জবাব চায় চন্দ্রকোনা’! ভোটের আগে তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’র খতিয়ান নিয়ে ভোটারদের দুয়ারে বিজেপি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই নয়া রণকৌশল নিল বঙ্গ বিজেপি। এবার আর কেবল জনসভা বা দেওয়াল লিখন নয়, সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস ও সরকারের ‘দুর্নীতি’র খতিয়ান নিয়ে সাধারণ মানুষের ড্রইংরুমে পৌঁছাতে চলেছে গেরুয়া শিবির। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা বিধানসভা কেন্দ্রকে পাখির চোখ করে একটি বিস্তারিত ‘চার্জশিট’ তৈরি করেছে বিজেপি, যার নাম দেওয়া হয়েছে— ‘চার্জশিট – জবাব চায় চন্দ্রকোনা’।

সোমবার সন্ধ্যায় চন্দ্রকোনার রামজীবনপুর দলীয় কার্যালয়ে ঘটা করে এই চার্জশিট প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামি, আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুশান্ত বেরা এবং চন্দ্রকোনা বিধানসভার কনভেনার সুদীপ কুশারি। বিজেপির অভিযোগ, চন্দ্রকোনার বর্তমান বিধায়ক ও সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও রাস্তাঘাট মেরামত, নদীবাঁধ সংস্কার বা ভাঙা সেতুর কোনো উন্নতি হয়নি। এমনকি গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসক নেই এবং ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ব্যাপক স্বজনপোষণ ও দুর্নীতি হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগকে পয়েন্ট ভিত্তিক সাজিয়ে একটি বুকলেট বা চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে যা আগামী কয়েক দিন বিধানসভার প্রতিটি ভোটারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিজেপি নেতা সুশান্ত বেরা জানান, “সরকারে থেকেও স্থানীয় বিধায়ক কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। আমরা সেই ব্যর্থতার তালিকা নিয়ে মানুষের কাছে জবাব চাইতে যাচ্ছি।” অন্যদিকে, এই কর্মসূচিকে ‘ফাটকাবাজি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজিত মাইতির দাবি, “ভোট এলেই বিজেপি এসব মিথ্যে গল্পের ঝুলি নিয়ে বের হয়, ভোট ফুরোলে এদের দেখা মেলে না।” তবে প্রচারের এই ‘চার্জশিট’ কৌশল যে মেদিনীপুরের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।