সিপিএম ছেড়ে কোন ফুলে প্রতীক উর? চলতি সপ্তাহেই কি তৃণমূলের উত্তরীয় পরছেন এই তরুণ তুর্কি?

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় ভাঙনের মুখে বঙ্গ সিপিএম। সব জল্পনা সত্যি করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের দাপুটে যুব নেতা প্রতীক উর রহমান খুব শীঘ্রই ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শাসকদলে যোগ দিতে পারেন। সোমবার প্রতীকের পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই যে শোরগোল শুরু হয়েছিল, তা এখন দলবদলের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।
দীর্ঘদিন ধরে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই-এর পরিচিত মুখ প্রতীক উর রহমানের মগরাহাট এলাকায় নিজস্ব জনভিত্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশ্নাতীত। হঠাৎ কেন দলবদল? প্রতীকের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যে বিজেপির ‘সাম্প্রদায়িক’ রাজনীতির মোকাবিলা করতে তৃণমূলই একমাত্র বিকল্প শক্তি। এই ‘আদর্শগত’ অবস্থান থেকেই তিনি বামপন্থা ছেড়ে তৃণমূলের পথে হাঁটছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মগরাহাটে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক এবং প্রতীকের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপিকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করাই শাসকদলের আসল লক্ষ্য।
এদিকে, প্রতীকের এই সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের নেতা রাজর্ষি লাহিড়ী বলেন, “বাম এবং তৃণমূল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। যারা ফিশফ্রাই আর কফি খেয়ে গণশক্তির বোর্ড লাগানোর অনুমতি পায়, তাদের জন্য এই ঘরবদল স্বাভাবিক।” অন্যদিকে, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, প্রতীকের মতো লড়াকু মুখ দলে এলে সাংগঠনিক শক্তি বহুগুণ বাড়বে। এখন দেখার, চলতি সপ্তাহের শেষে কালীঘাটে গিয়ে প্রতীক উর রহমান শেষ পর্যন্ত ঘাসফুলের উত্তরীয় পরেন কি না।