“বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক”-গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের, যা জানা দরকার সকলের

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস কি ধর্ষণ? এই দীর্ঘস্থায়ী আইনি বিতর্কের মাঝে এক চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। জামিনের আবেদনের শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারথনা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট জানাল, “বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়ে পরস্পরের কাছে অপরিচিত। তাই শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।”
ঘটনার নেপথ্যে: ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইট থেকে দুবাই সফর
মামলার বয়ান অনুযায়ী, ২০২২ সালে একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটের মাধ্যমে ৩০ বছর বয়সী এক মহিলার সঙ্গে আলাপ হয় অভিযুক্ত ব্যক্তির। অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিল্লি এবং দুবাইয়ে নিয়ে গিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, গোপনে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
“হয়তো আমরা সেকেলে”: বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
সোমবার শুনানির সময় বিচারপতি নাগারথনা বলেন,
“হয়তো আমরা সেকেলে, কিন্তু বিয়ের আগে তো একজন ছেলে ও মেয়ে একে অপরের কাছে অপরিচিত। সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক না কেন, বিয়ের আগে তারা কীভাবে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়, সেটা আমরা বুঝতে পারি না। কাউকে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হবে।”
আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, অভিযোগকারিণী কেন বিয়ের আগেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে দুবাই গিয়েছিলেন? বিচারপতির মতে, বিয়ের ব্যাপারে গুরুত্ব থাকলে বিয়ের আগে এভাবে কোথাও যাওয়া উচিত ছিল না।
আইনি জটিলতা ও হাইকোর্টের রায়
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখছিলেন, তখন তিনি বিবাহিত ছিলেন। এমনকি পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি অন্য এক মহিলাকে বিয়েও করেন। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট এই ব্যক্তির জামিন খারিজ করে জানিয়েছিল— শুরু থেকেই বিয়ের প্রতিশ্রুতিটি ছিল ভুয়ো এবং অসৎ উদ্দেশ্যে দেওয়া। হাইকোর্টের মতে, বিয়ের অভিপ্রায় ছাড়া দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে প্রাপ্ত সম্মতি আইনত বৈধ নয়।
মধ্যস্থতার পথে আদালত?
সুপ্রিম কোর্ট এদিন পর্যবেক্ষণ করে যে, এই ধরণের মামলা যখন সম্মতিসূচক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, তখন তা সরাসরি দণ্ডের বিষয় না হয়ে মধ্যস্থতার (Mediation) পথেও যেতে পারে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।