প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমান! ড. ইউনূস কি হতে চলেছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? জানুন আসল সত্য

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। তবে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই আবহে রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের পরবর্তী ভূমিকা কী হতে চলেছে?

সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে কূটনৈতিক মহল, সর্বত্রই জোর গুঞ্জন যে ড. ইউনূস হয়তো পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না। দেশের নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে তাঁকে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এনডিটিভি সূত্রে খবর, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও অভিজ্ঞতাকে দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে অত্যন্ত আগ্রহী।

যদিও ইউনূসের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট পদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে তারেক রহমান একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা’ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছেন, যেখানে দেশের মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের স্থান হবে। কবিরের মতে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের যে বিশাল প্রভাব, তা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কূটনীতিতে সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, রাজনীতিতে ড. ইউনূসের আগ্রহ শূন্য। তিনি কেবল দেশের এক চরম সংকটকালে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছেন। অন্যদিকে, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়টি আপাতত অস্বীকার করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের মধ্যে কাজের বোঝাপড়া দেশের ভবিষৎ গঠনে বড় ভূমিকা নিতে পারে। মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের পরই সম্ভবত পরিষ্কার হবে, ড. ইউনূস কোনো অলঙ্কারিক পদে থাকছেন নাকি পর্দার আড়ালে থেকে পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করবেন।