‘পদত্যাগ করতে চাই’- তারেক সরকার আসতেই এবার কি সরছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-র নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই বর্তমান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। যদিও তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত, কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এখন বঙ্গভবনে নতুন মুখ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাহাবুদ্দিনের অবস্থান ও পদত্যাগের ইঙ্গিত
আওয়ামী লীগ আমলে মনোনীত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগেই জানিয়েছিলেন যে, তিনি পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক। তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে ছিলেন। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনই এই শপথবাক্য পাঠ করাবেন। কিন্তু এরপরই তাঁর বিদায় এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির দৌড়ে সম্ভাব্য নাম
প্রথম আলোর প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক গুঞ্জন অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবার আগে উঠে আসছে। ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই অধ্যাপক বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী। ২০২৩ সালে বগুড়ায় এক সমাবেশে বিএনপি নেতা জিএম সিরাজ বলেছিলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী এবং মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি হবেন।” সেই সমীকরণই এখন বাস্তব হওয়ার পথে। এছাড়া আলোচনায় রয়েছে দলের আরেক বর্ষীয়ান নেতা নজরুল ইসলাম খানের নামও।

গণতান্ত্রিক উত্তরণে নতুন অধ্যায়
বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ায় সংবিধান সংশোধন বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের পথ প্রশস্ত। দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকার শেষে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এই সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্রপতি পদের পরিবর্তনটি হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাহাবুদ্দিনের বিদায় এবং খন্দকার মোশাররফের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের বঙ্গভবনে প্রবেশ বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।