রেলে বিপ্লব! অমৃত ভারত প্রকল্পে ভোলবদল হচ্ছে ৬০ স্টেশনের, তালিকায় আপনার শহর আছে তো?

ভারতীয় রেলওয়েতে আধুনিক ও যাত্রী-বান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে মোদী সরকারের উচ্চাভিলাষী ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’ (ABSS) এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। রেল মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো স্টেশনগুলোকে কেবল যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং আধুনিক শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
কী কী সুবিধা থাকছে নতুন স্টেশনে?
এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি স্টেশনের জন্য আলাদা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম, এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ এবং বিজনেস মিটিং-এর জন্য বিশেষ জায়গার ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া চলাচলের সুবিধার জন্য লিফট, এসকেলেটর এবং দিব্যাঙ্গবান্ধব পরিকাঠামো নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্টেশনের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ওয়েটিং রুম ও শৌচাগার—সবকিছুতেই থাকছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এছাড়া বিনামূল্যে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই এবং স্থানীয় পণ্য প্রচারের জন্য ‘এক স্টেশন এক পণ্য’ কিয়স্ক স্থাপন করা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
উত্তর-পূর্ব ভারতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের আওতাধীন ৯২টি স্টেশনকে এই প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অসমের ৫০টি, ত্রিপুরার ৪টি এবং সিকিম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডের ১টি করে স্টেশন রয়েছে। ইতিমধ্যে অসমের হয়বরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনটি দেশের প্রথম সম্পূর্ণ ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা ২০২৫ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করেন। এই স্টেশনটি অসমীয়া সংস্কৃতি ও আধুনিক স্থাপত্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।
কাজের অগ্রগতি
বর্তমানে বিভিন্ন ডিভিশনে যুদ্ধের তৎপরতায় কাজ চলছে। আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ফকিরাগ্রাম ও ধুবড়ীতে প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ। রঙিয়া ডিভিশনের মাজবাট ও বিশ্বনাথ চারিয়ালী স্টেশন প্রায় ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। মেঘালয়ের মেন্দিপথার স্টেশনেও ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এই ভোলবদল কেবল ভ্রমণের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াবে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করে উত্তর-পূর্ব ভারতের আর্থ-সামাজিক চিত্রে আমূল পরিবর্তন আনবে।