ইয়ারফোন কি নিয়মিত পরিষ্কার করেন না? হতে পারে মারাত্মক ইনফেকশন

গান শোনা, অফিসের মিটিং কিংবা দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা—আজকাল ইয়ারফোন বা ইয়ারবাড আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আপনার পছন্দের এই গ্যাজেটটিই কি আপনার কানের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ইয়ারফোন পরিষ্কার না করলে এটি হয়ে উঠতে পারে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের আতুঁড়ঘর, যা ডেকে আনতে পারে স্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা।
কেন ইয়ারফোন ইনফেকশনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়?
ইয়ারফোন ব্যবহারের সময় কান ও ইয়ারফোনের মাঝে এক ধরণের ঘর্ষণ হয়, ফলে ঘাম জমে। এই গরম ও আর্দ্র পরিবেশ জীবাণুর বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ। এছাড়া কানের মোম (Earwax), ত্বকের তেল এবং ধুলোবালি ইয়ারফোনে জমে এক ধরণের আস্তরণ তৈরি করে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এই নোংরা ইয়ারফোন ব্যবহারের সময় সরাসরি কানের ভেতরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
বিপদ যখন ‘ওটাইটিস এক্সটার্না’
কানে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস সংক্রমণ হলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ওটাইটিস এক্সটার্না’ বলা হয়। এর ফলে:
-
কানে প্রচণ্ড চুলকানি ও ব্যথা হতে পারে।
-
কানের চারপাশ লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে।
-
কান থেকে পুঁজ বা সাদা রঙের তরল নিঃসরণ হতে পারে।
-
সংক্রমণ মাঝের কানে (Middle Ear) ছড়িয়ে পড়লে শোনার ক্ষমতাও কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অন্যের ইয়ারফোন শেয়ার করা মানেই বিপদ!
অনেকেই বন্ধুর বা সহকর্মীর ইয়ারফোন ব্যবহার করেন। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে একজনের কানের জীবাণু অন্যজনের কাছে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ—ব্যক্তিগত গ্যাজেট কাউকে ধার দেওয়া বা অন্যেরটা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
কীভাবে পরিষ্কার করবেন আপনার ইয়ারফোন?
আপনার কান ও গ্যাজেট উভয়কেই সুরক্ষিত রাখতে নিচের পদ্ধতিগুলো মেনে চলুন: ১. সফট টিপস পরিষ্কার: ইয়ারফোনের রাবার বা সিলিকনের টিপগুলো আলাদা করে নিন। হালকা কোনো জীবাণুনাশক বা স্যানিটাইজার মেশানো নরম কাপড় দিয়ে সেগুলো মুছে ফেলুন। ২. সতর্কতা: সরাসরি জল বা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহার করবেন না, এতে ইয়ারফোনের সেন্সর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ৩. নিয়মিত অভ্যাস: সপ্তাহে অন্তত একবার ইয়ারফোন এবং এর কেস (Case) ভালো করে পরিষ্কার করার অভ্যাস করুন।
আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনার কানের স্বাস্থ্যকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।