বন্ধুর বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেতে যাওয়াই কাল! স্ত্রীর প্রেমিকের হাতে বীভৎস খুন প্রবাসী স্বামী, শিউরে উঠছে বর্ধমান

বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, ঘুণাক্ষরেও টের পাননি স্বামী। সেই বন্ধুর বাড়িতেই সপরিবারে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হলো তাঁকে। পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার মিলিকপাড়ায় ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতের নাম সফিকুল ইসলাম আনসারি (৪০)। পুলিশ ইতিমধ্যেই নিহতের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা এবং তাঁর প্রেমিক মমতাজউদ্দিন শেখ ওরফে উজ্জ্বল শেখকে গ্রেফতার করেছে।
পরকীয়া ও খুনের ছক: পুলিশ সূত্রে খবর, সফিকুল চেন্নাইয়ে সোনার কাজ করতেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই স্ত্রী রাজিয়ার সঙ্গে বন্ধু উজ্জ্বলের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সম্প্রতি সফিকুল বাড়ি ফিরলে টিকিট বাতিল করে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতেই নিজেদের বিয়ের পথে বাধা দেখে সফিকুলকে সরানোর পরিকল্পনা করে রাজিয়া ও উজ্জ্বল। রবিবার সকালে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বন্ধুর বাড়িতে যান সফিকুল। অভিযোগ, ফেরার পথে ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে সফিকুলকে খুন করে ক্যানালে ফেলে দেওয়া হয়।
থানায় গিয়ে সাজানো গল্প: খুনের পর অপরাধ ঢাকতে নিজেই থানায় হাজির হয় অভিযুক্ত উজ্জ্বল। পুলিশকে সে জানায়, কয়েকজন দুষ্কৃতী তাদের পথ আটকে সফিকুলকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু পুলিশের জেরায় ধরা পড়ে যায় তার বয়ানের অসঙ্গতি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দফায় দফায় জেরায় রাজিয়া ও উজ্জ্বল খুনের কথা কবুল করেছে। অভিযুক্ত উজ্জ্বলও বিবাহিত বলে জানা গিয়েছে। নিজের ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সফিকুলের বৃদ্ধা মা। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই নৃশংস খুনের পেছনে আর কেউ জড়িত কি না।