মাঝরাতে অমিতাভের ড্রয়িং রুমে রেখা! জয়া বচ্চনের এক সিদ্ধান্তে কীভাবে বদলে গেল বলিউডের ইতিহাস?

বলিউডের ইতিহাসে অমিতাভ-রেখা-জয়া এই ত্রিকোণ প্রেম নিয়ে চর্চা আজও অমলিন। আশির দশকের সেই উত্তাল সময় নিয়ে ফের বিস্ফোরক সব তথ্য উঠে এসেছে প্রখ্যাত সাংবাদিক ইয়াসির উসমানের লেখা বই ‘রেখা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’-তে। যেখানে অমিতাভ-জয়ার সম্ভাব্য ডিভোর্স থেকে শুরু করে রেখাকে নিয়ে বচ্চন পরিবারের অন্দরমহলের টানাপোড়েন— সবটাই যেন কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও রোমাঞ্চকর।

জয়ার সেই ঐতিহাসিক ডিনার ইনভিটেশন: শোনা যায়, অমিতাভ যখন শুটিংয়ের কাজে বাইরে ছিলেন, তখনই একদিন রেখাকে নিজের বাড়িতে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান জয়া বচ্চন। রেখা নিজেই এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, সেই রাতে জয়া তাঁকে গোটা বাড়ি ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন। ড্রয়িং রুমে বসে আড্ডা হয়েছিল সমস্ত বিষয় নিয়ে, শুধু ব্রাত্য ছিলেন একজনই— অমিতাভ বচ্চন। বিদায়বেলায় জয়া রেখাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “যাই হয়ে যাক, আমি অমিতকে কখনও ছাড়ব না।” এই একটি বাক্যই সেদিন বুঝিয়ে দিয়েছিল বচ্চন পরিবারের অটল কাঠামোর কথা।

ডিভোর্স নিয়ে কী বলেছিলেন বিগ বি? সেই সময় যখন চারদিকে বিচ্ছেদের গুঞ্জন তুঙ্গে, তখন এক সাক্ষাৎকারে অমিতাভ বচ্চন জানিয়েছিলেন, “আমাদের ডিকশনারিতে ডিভোর্স বলে কোনও শব্দ নেই। আমি এতে বিশ্বাস করি না।” জয়া বচ্চনও নিজের অবস্থানে ছিলেন অনড়। তিনি বলেছিলেন, দুনিয়া কী ভাবছে তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। অমিতাভ তাঁর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যদি তিনি অন্য কাউকে ভালোবাসেনও, তবে সেটা তাঁর বিবেকের বিষয়। এই আভিজাত্য এবং মর্যাদার লড়াই শেষ পর্যন্ত সিলভার স্ক্রিনে ‘সিলসিলা’ ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যশ চোপড়া, যা আজও ভক্তদের হৃদয়ে শিহরণ জাগায়।