বিয়ের মাত্র ৫ মাসে বীভৎস পরিণতি! অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চলন্ত গাড়িতে গলা কেটে খুন, কাঠগড়ায় স্বামী

প্রেমের মাস ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সেই প্রেমই যে এমন নৃশংস রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি হরিয়ানার হাঁসির এক পরিবার। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল মহক এবং অংশুলের। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাস পর, রবিবার রাতে চলন্ত গাড়ির ভেতরেই রহস্যজনকভাবে খুন হলেন গুরুগ্রামের এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের তরুণী কর্মী মহক। নিহতের পরিবারের দাবি, মহক অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় সন্দেহের তির খোদ স্বামীর দিকে।
ঘটনার বিবরণ: পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে গুরুগ্রাম থেকে হিসারে নিজেদের বাড়িতে এসেছিলেন দম্পতি। রবিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তাঁরা পুনরায় গুরুগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত ১১টা নাগাদ হরিয়ানার হাঁসি ও বাদলির মাঝপথে মহক খুন হন। অভিযুক্ত অংশুল পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তিনিই পুলিশকে মহকের মৃত্যুর খবর দেন। তবে তাঁর বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় শুরু থেকেই তাঁকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছে তদন্তকারীরা।
নৃশংস হত্যাকাণ্ড: মহকের ঘাড়ের ও গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কাঁচি জাতীয় কোনও ধারালো বস্তু দিয়ে মহকের গলায় বারবার আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অংশুল এবং তাঁর পরিবার শুরু থেকেই মহকের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করত। তবে খুনের নেপথ্যে পুরনো কোনও বিবাদ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মহক ও অংশুল দুজনেই গুরুগ্রামে নামী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে তাঁদের জীবন সুখী মনে হলেও, বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় এই পরিণতি অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। পুলিশ অংশুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কেন মাঝপথে হঠাত এই আক্রমণ এবং ঘটনার সময় অংশুল ঠিক কী করছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।