বঙ্গ ভোটের আগে বড় চমক! গণনাকেন্দ্র নিয়ে কড়া নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন, বদলাচ্ছে নিয়ম

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে এখনও মাস তিনেক দেরি, কিন্তু তার আগেই তৎপরতা তুঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। আসন্ন ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করা হলো। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রতিটি জেলার সদর শহর বা জেলা সদরেই তৈরি করতে হবে মূল গণনাকেন্দ্র। এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।

কমিশনের নয়া ফরমান সাধারণত অনেক সময় মহকুমা স্তরেও গণনাকেন্দ্র করা হয়, কিন্তু এবারের নির্দেশিকা অনুযায়ী সমস্ত ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট ভোটগ্রহণ শেষে সরাসরি জেলা সদরে নিয়ে আসতে হবে। সেখানেই স্ট্রং রুম তৈরি করে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাখা হবে ভোটযন্ত্রগুলি। মূলত গণনার কাজ এক জায়গায় করা এবং নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

পরিকাঠামো নিয়ে দুশ্চিন্তা কমিশনের এই নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে কিছুটা উদ্বেগে পড়েছে প্রশাসন। একটি আদর্শ গণনাকেন্দ্র তৈরি করতে হলে বড় হলঘর, সিসিটিভি নজরদারি, গণনাকর্মীদের বসার জায়গা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো প্রয়োজন। উত্তর ২৪ পরগনার মতো বড় জেলায় বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় জেলা সদরে এত বড় জায়গা খুঁজে পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজ সূত্রের খবর, অনেক জেলায় বড় সরকারি ভবন না থাকায় নামী স্কুল, কলেজ বা বড় স্টেডিয়ামকে গণনাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। ছোট জেলাগুলিতে সমস্যা কম হলেও বড় জেলাগুলির ক্ষেত্রে একাধিক ভবন ব্যবহার করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরিকাঠামো যাই হোক না কেন, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনও আপস করা যাবে না।

রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জেলাশাসকদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিকাঠামো গড়ে তুলে কমিশনকে রিপোর্ট পাঠাতে হবে। ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই এই প্রশাসনিক প্রস্তুতি বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।