সাধারণ মানুষের পকেটে টান! ১০ মাসের রেকর্ড ভাঙল মুদ্রাস্ফীতি, হু হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

নতুন বছরের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল দেশের আমজনতা। সোমবার সরকারি প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খাদ্যদ্রব্য, খাদ্যবহির্ভূত পণ্য এবং উৎপাদিত পণ্যের দাম একযোগে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি (WPI) গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। জানুয়ারিতে এই মুদ্রাস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ১.৮১ শতাংশ, যা গত তিন মাস ধরে টানা ঊর্ধ্বমুখী।
কেন বাড়ছে দাম? শিল্প মন্ত্রকের জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মূলত খাদ্যপণ্য, বস্ত্র, মৌলিক ধাতু এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বাড়ার কারণেই মুদ্রাস্ফীতির এই উল্লম্ফন। ডিসেম্বরে যেখানে এই হার ছিল মাত্র ০.৮৩ শতাংশ, এক ধাক্কায় তা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
এক নজরে পরিসংখ্যান:
-
খাদ্যপণ্য: খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরের ০.৪৩ শতাংশ থেকে বেড়ে জানুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ১.৫৫ শতাংশে।
-
সবজি: বাজারের ব্যাগে আগুন! সবজির মূল্যস্ফীতি ৩.৫০ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৬.৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
-
খাদ্যবহির্ভূত পণ্য: এই ক্ষেত্রেই সবথেকে বড় লাফ দেখা গিয়েছে। ডিসেম্বরের ২.৯৫ শতাংশ থেকে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭.৫৮ শতাংশ।
-
উৎপাদিত পণ্য: শিল্পজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ২.৮৬ শতাংশ।
গ্রাম ও শহরের চিত্র: খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হারও বেড়ে ২.৭৫ শতাংশে ঠেকেছে। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতি ২.৭৩ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ২.৭৭ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। খাদ্য মূল্যের নিরিখে শহরাঞ্চল (২.৪৪%) গ্রামীন অঞ্চলের (১.৯৬%) তুলনায় বেশি দামি হয়ে উঠেছে। তবে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত, যেখানে নেতিবাচক মুদ্রাস্ফীতি (-৪.০১%) অব্যাহত রয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সাধারণত খুচরো মূল্যস্ফীতির ওপর ভিত্তি করেই রেপো রেট বা সুদের হার নির্ধারণ করে। ইতিমধিই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেপো রেট ১.২৫ শতাংশ কমিয়ে ৫.২৫ শতাংশে আনা হয়েছে। কিন্তু পাইকারি বাজারে যেভাবে দাম বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।