মালদহে ৪০০০ বেকারের ‘চাকরি’র স্বপ্ন শেষ! নার্সিংহোমে নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকার মহা-প্রতারণা

চাকরির হাহাকারকে পুঁজি করে মালদহে এক নজিরবিহীন প্রতারণা চক্রের হদিশ মিলল। জেলার কালিয়াচক থানার সুজাপুরে অবস্থিত ‘মালদা মিশন হাসপাতাল’ নামক একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে চাকরির টোপ দিয়ে তাঁদের সর্বস্ব লুট করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। অভিযোগের তির নার্সিংহোম মালিক নাজিউল শেখ ও তাঁর বোনের দিকে।
কীভাবে চলত এই চক্র? ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার শুরু করে এই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, একটি ৪০০ বেডের বিশাল হাসপাতাল খুলছে, যেখানে নার্সিং, গ্রুপ ডি, টেকনিশিয়ান এবং সিকিউরিটি গার্ড-সহ বিভিন্ন পদে সাড়ে চার হাজার লোক নিয়োগ করা হবে। এই বিপুল শূন্যপদের কথা শুনে শুধু মালদহ নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গ এমনকি ভিন রাজ্য থেকেও কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়ে।
নিয়োগের নামে অর্থ আদায় প্রতারিতদের অভিযোগ, ইন্টারভিউয়ের নামে সবাইকে ডাকা হতো এবং লোভনীয় বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। নিয়োগের শর্ত হিসেবে ইউনিফর্ম ও ট্রেনিংয়ের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। দ্রুত চাকরিতে যোগ দেওয়ার নাম করে কারও কারও কাছ থেকে ২০ হাজার টাকাও নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রার্থীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মালিকপক্ষের হুমকি ও পুলিশের ভূমিকা টাকা দেওয়ার পর দুই মাস কাটলেও মেলেনি নিয়োগপত্র। এভাবে এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীরা যখন দলবদ্ধভাবে নার্সিংহোমে টাকা ফেরত চাইতে যান, তখন তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রতারিতদের আরও দাবি, কালিয়াচক থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ তাঁদের ফিরিয়ে দেয়। অবশেষে নিরুপায় হয়ে কয়েক হাজার যুবক-যুবতী মালদহের জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা জেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।